makar sankranti celebrations surya upasana

ব্যুরো নিউজ, ১৪ই জানুয়ারী ২০২৬ : বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে ‘সংক্রান্তি’ শব্দটির অর্থ হলো সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে সংক্রমণ বা প্রবেশ। বছরে ১২টি সংক্রান্তি থাকলেও, ‘পৌষ সংক্রান্তি’ বা ‘মকর সংক্রান্তি’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬-এ সূর্য ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করছে, যা কেবল একটি ঋতু পরিবর্তন নয়, বরং মানব চেতনার এক উচ্চতর স্তরে উত্তরণের ইঙ্গিত।


অশুভ শক্তির বিনাশ ও ‘চৈতন্য’ প্রাপ্তি

হিন্দু শাস্ত্রানুসারে, এই বিশেষ দিনে ভগবান বিষ্ণু অসুরদের পরাজিত করে তাদের মস্তক মন্দরাচল পর্বতের নিচে প্রোথিত করেছিলেন। এটি আমাদের ভেতরের নেতিবাচকতা দূর করে ন্যায়পরায়ণতা এবং শুভ বুদ্ধির উদয়ের প্রতীক। আধ্যাত্মিক সাধকদের মতে, এই সময়ে পরিবেশ ‘চৈতন্য’ বা মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তায় পূর্ণ থাকে, যা সাধনা বা ধ্যানের জন্য অত্যন্ত অনুকূল।


Makar Sankranti : অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা: মকর সংক্রান্তির গূঢ় তাৎপর্য

সূর্য উপাসনা: প্রত্যক্ষ ব্রহ্মের আরাধনা

মকর সংক্রান্তির মূল দেবতা হলেন সূর্য। শাস্ত্রে সূর্যকে ‘প্রত্যক্ষ ব্রহ্ম’ বলা হয়েছে, যিনি আমাদের জ্ঞান, আধ্যাত্মিক আলোক এবং প্রজ্ঞা দান করেন। এই দিন ভোরে সূর্যোদয়ের আগে শয্যাত্যাগ করা এবং স্নানের জলে সামান্য তিল মিশিয়ে স্নান করার বিধান রয়েছে। স্নানান্তে গায়েত্রী মন্ত্র জপ এবং সূর্যকে ‘অর্ঘ্য’ অর্পণ করার মাধ্যমে ভক্তরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।


আয়ুর্বেদ ও মকর সংক্রান্তির আহার

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, এই সন্ধিক্ষণে ঋতু পরিবর্তনের কারণে শরীরে দোযের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। তাই এই দিনে খিচুড়ি খাওয়ার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

  • পাচনতন্ত্রের সুরক্ষা: খিচুড়ি সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর, যা শীতের শেষ ও বসন্তের শুরুর এই সময়ে শরীরকে প্রস্তুত করে।

  • ঐক্যের প্রতীক: চাল, ডাল, সবজি এবং মশলার মিশ্রণে এক পাত্রে রান্না করা এই খাবারটি বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের শিক্ষা দেয়।

  • তিল ও গুড়: তিল নেতিবাচকতা শুষে নিয়ে শরীরে ‘সত্ত্ব’ গুণ বা শুদ্ধতা বৃদ্ধি করে। তিল ও গুড়ের সংমিশ্রণ শীতকালীন শুষ্কতা দূর করে শরীরে উষ্ণতা জোগায়।


উত্তরায়ণ ও ত্যাগের মহিমা

মকর সংক্রান্তি থেকেই সূর্যের উত্তরায়ণ গতি শুরু হয়, যা দীর্ঘতর দিন এবং উষ্ণতার আগমণী বার্তা দেয়। এই দিন থেকেই দক্ষিণায়নের অন্ধকার ঘুচে আলোর যাত্রা শুরু। মহাভারতের ভীষ্ম পিতামহ এই পুণ্য লগ্নের গুরুত্ব বুঝেই শরশয্যায় প্রতীক্ষা করেছিলেন এবং উত্তরায়ণ শুরু হলে মোক্ষ লাভের উদ্দেশ্যে দেহত্যাগ করেন। এটি আধ্যাত্মিক মুক্তি এবং সঠিক সময়ের প্রতীক্ষার এক মহান দৃষ্টান্ত।


Swami Vivekananda Birthday 2026 : বীর সন্ন্যাসীর ১৬৩তম জন্মতিথি: বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন ভারত গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রী মোদীর

রঙিন আকাশ ও সুস্বাস্থ্যের চর্চা

গুজরাটসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথা রয়েছে। এর পেছনে কেবল আনন্দ নয়, বরং সুস্বাস্থ্যের এক গূঢ় কারণ লুকিয়ে আছে। সকালের নরম রোদে ঘুড়ি ওড়ানোর ছলে শরীর প্রচুর পরিমাণে ‘ভিটামিন ডি’ গ্রহণ করে, যা শীতের জড়তা কাটিয়ে নতুন জীবনীশক্তি দান করে।


উপসংহার

মকর সংক্রান্তি মানেই পুরনোকে ধুয়ে মুছে ফেলে নতুন আলোর আবাহন। হলুদ বা রেশমি বস্ত্র পরিধান, তিল-গুড়ের মিষ্টত্ব বিনিময় এবং পবিত্র স্নানের মাধ্যমে আমরা যেন কেবল বাহ্যিক উৎসব নয়, বরং অন্তরের অন্ধকার দূর করে এক নতুন চেতনার দিকে এগিয়ে যেতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর