swami pm vivek

ব্যুরো নিউজ, ১২ই জানুয়ারী ২০২৬ : আজ ১২ই জানুয়ারি, সারা দেশজুড়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে পালিত হচ্ছে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী। ভারতের এই মহান আধ্যাত্মিক গুরু ও চিন্তাবিদকে স্মরণ করে দিনটিকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বামীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ও আগামীর সংকল্প

সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের যুবশক্তির অনুপ্রেরণার উৎস স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীতে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং কর্ম ‘বিকশিত ভারত’-এর সংকল্প বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত নতুন শক্তি জোগায়।” একটি ভিডিও বার্তায় তিনি আরও যোগ করেন যে, স্বামীজি বিশ্বাস করতেন ভয়হীন, নিঃস্বার্থ ও সাহসী যুব সমাজই একটি জাতির ভবিষ্যতের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী আজকের তরুণ প্রজন্মকে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার আহ্বান জানান।

Swami Vivekananda Birthday 2026 : স্বামী বিবেকানন্দ জয়ন্তী: জাতীয় যুব দিবস পালনের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাকে স্মরণ

ইতিহাস ও তাৎপর্য: ১৮৯৩-এর সেই দিগ্বিজয়

১৮৬৩ সালের এই দিনে কলকাতার এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তাঁর পিতা বিশ্বনাথ দত্ত ছিলেন উচ্চ আদালতের আইনজীবী এবং মাতা ভুবনেশ্বরী দেবী ছিলেন এক বিদুষী নারী। স্বামীজির জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত ছিল ১৮৯৩ সালে শিকাগোর ধর্ম মহাসভায় দেওয়া সেই অমর বক্তৃতা। “আমেরিকার ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ”—এই সম্বোধনে তিনি বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছিলেন। ভারতের সহিষ্ণুতা ও বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্বের বার্তাকে তিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন বিশ্বের দরবারে।

১৮৯৩-এর শিকাগো সম্মেলনে অন্যান্য ভারতীয় বক্তা: উল্লেখ্য যে, শিকাগোর সেই মহাসভায় বিবেকানন্দ একা ছিলেন না। জৈন দর্শনের পন্ডিত বীরচাঁদ রাঘবজি গান্ধী এবং ব্রাহ্ম সমাজের নেতা প্রতাপ চন্দ্র মজুমদারও ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে বক্তৃতা রেখেছিলেন এবং ভারতীয় চিন্তাধারার প্রসার ঘটিয়েছিলেন।

জাতীয় যুব দিবস ও স্বামীজির দর্শন

১৯৮৪ সালে ভারত সরকার ১২ই জানুয়ারীকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৮৫ সাল থেকে এটি দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, বরং চরিত্র গঠন এবং আত্মনির্ভরশীলতা। তিনি বলতেন, “এমন পেশী চাই যা লোহার মতো শক্ত এবং স্নায়ু চাই যা ইস্পাতের মতো দৃঢ়।” তাঁর মতে, যুব সমাজের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠাই ভারতের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

Tulsi Pujan : ২৫শে ডিসেম্বর কেন তুলসী দিবস? ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয়

যুব সমাজের জন্য কালজয়ী বার্তা

আজকের এই বিশেষ দিনে স্বামীজির কিছু অমর বাণী তরুণদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক:

  • “ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।”

  • “নিজে যা ভাবো, ঠিক তাই হয়ে উঠবে; তাই নিজের চিন্তার দিকে খেয়াল রাখো।”

  • “যেদিন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হবে না, জানবে তুমি ভুল পথে চলছো।”

উপসংহার

স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও দর্শন আধুনিক প্রজন্মের কাছে সাহস ও শক্তির এক অফুরন্ত উৎস। রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা এই সন্ন্যাসী শিখিয়েছিলেন মানবসেবাই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে স্বামীজির আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় যুব সমাজকে এক সঠিক দিশা দেখায়। তাঁর সেই অমোঘ বাণী—”শক্তিই জীবন, দুর্বলতাই মৃত্যু”—আজও কোটি কোটি মানুষকে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস জুগিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর