ব্যুরো নিউজ ২৯শে আগস্ট ২০২৫ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা পিটার নাভারো একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করে দাবি করেছেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যুদ্ধ। ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাভারো বলেন, “শান্তির রাস্তা আংশিকভাবে নয়াদিল্লির মধ্য দিয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, ভারত রাশিয়া থেকে ছাড়কৃত মূল্যে তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ায় এই সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে । নাভারো আরও অভিযোগ করে , ভারত ‘ক্রেমলিনের জন্য তেলের অর্থ শোধনাগার’ হিসেবে কাজ করছে। অগত্যা মার্কিন সাম্রাজ্যের প্রলাপ বার্তা অব্যাহত !
নাভারো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যদি ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবে। এই মন্তব্য এসেছে ভারতের পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের একদিন পরেই। ১ আগস্ট, ২০২৫-এ ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য বৈষম্য মোকাবিলার জন্য ভারতের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করে, এবং ৬ আগস্ট রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার শাস্তিস্বরূপ আরও ২৫% শুল্ক আরোপ করা হয়।
মোদী-ট্রাম্পের ফোনালাপ বিতর্ক
শুল্ক আরোপের পর ট্রাম্প চারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে, কিন্তু মোদী নাকি সেই ফোন এড়িয়ে গেছেন। জার্মানির সংবাদপত্র ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালগেমিইন সাইটুং (FAZ) এবং জাপানের পত্রিকা নিক্কেই এশিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাম্পের ফোন কল এড়িয়ে গেছেন। এর জবাবে ভারত জানিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
জাপানের চুক্তি বাতিল এবং মার্কিন ট্রেজারি সচিবের মন্তব্য
যখন প্রধানমন্ত্রী মোদী জাপানে সফর করছেন, ঠিক তখনই জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৫৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ প্যাকেজ চূড়ান্ত করার জন্য তাদের বাণিজ্য আলোচক রিওসেই আকাজাওয়া-র পরিকল্পিত মার্কিন সফর বাতিল করেছে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল জাপানের পণ্যের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক কমানো। জাপানের সরকার মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি জানান, প্রশাসনিক স্তরে কিছু বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা বাকি থাকায় সফরটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট স্বীকার করেছেন যে, বর্তমান ভারত-মার্কিন সম্পর্ক “জটিল”। তিনি বলেন, “এটি একটি জটিল সম্পর্ক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে শুধু রাশিয়ার তেল নয়, শুল্ক নিয়েও আমরা এখনো কোনো চুক্তি করতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, ভারতীয় পক্ষ এই আলোচনাকে ‘একটু ধীর’ করে দিয়েছে।
রাশিয়ার তেলের সরবরাহ এবং এর প্রভাব
উল্লেখ্য, রাশিয়া ভারতের কাছে মাত্র ১৩% তেল রপ্তানি করে, যা তাদের মোট তেল রপ্তানির একটি ক্ষুদ্র অংশ। রাশিয়ার সিংহভাগ তেল বিভিন্ন মাধ্যমে চীন এবং ইউরোপে সরবরাহ করা হয়। এই সরবরাহ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেন ইউরোপে সরবরাহকারী বহু পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার ফলে ইউরোপকে বর্ধিত মূল্যে রাশিয়া এবং ভারতসহ অন্যান্য তেল সরবরাহকারী দেশ থেকে তেল কিনতে হচ্ছে। এই ঘটনাগুলো থেকে পরিষ্কার হচ্ছে যে, এই যুদ্ধের প্রকৃত দায় কার ওপর বর্তায় তা এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।