ব্যুরো নিউজ,১৮ ডিসেম্বর:শিশুর জেদ বা একগুঁয়ে আচরণ অভিভাবকদের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তবে মনোবিদেরা মনে করেন, এটি শিশুর বিকাশের জন্য ইতিবাচকও হতে পারে। শিশুর বয়স কম হলেও তাদের মধ্যে নানা রকম ইচ্ছা ও চাহিদা তৈরি হতে পারে। যখন সেই চাহিদা পূরণ হয় না, তখন তারা রাগ বা জেদ দেখাতে পারে। তবে, যদি এই আচরণ ক্রমেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন অভিভাবকদের উচিত সতর্ক হওয়া এবং সঠিক উপায়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা।
৭৪ মিনিটে পৃথিবী ছেড়ে গেলেও এক শিশুর অমর আত্মত্যাগ মনে রাখবে পৃথিবী
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
মুম্বইয়ের মনোবিদ ঋদ্ধি দোশি পটেল শিশুদের জেদ বা রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, শিশুর জেদ মানে সে আপনার কাছ থেকে আরও বেশি সময় বা সাহচর্য চায়। এমন হলে, তাকে একা ছেড়ে না দিয়ে, কিছু সময় তাকে সঙ্গে নিয়ে খেলাধুলা বা গল্প বলতে পারেন। দ্বিতীয়ত, অনেক সময় শিশু ভয় পেয়ে রেগে যায়। যদি সে কিছু বিষয় নিয়ে ভয় পায়, তবে তাকে শান্ত করে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করুন। তৃতীয়ত, শিশুদের বেশ কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আচরণই তার জেদ বাড়িয়ে দেয়। কখনও কখনও বড়রা তাদের কথা শোনেন না বা যথেষ্ট ধৈর্য দেখান না, ফলে শিশুর মনেও ক্ষোভ জমে।এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কী করতে হবে? প্রথমত, শিশুকে বকাবকি না করে তার মনোভাব বুঝে অন্য পরিবেশে নিয়ে যান। তাকে গল্পের বই পড়তে দিন বা ছবি আঁকতে দিন, যাতে তার মনোভাব কিছুটা হালকা হয়। এছাড়া, শিশুর সঙ্গে কথা বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যতই ব্যস্ততা থাকুক, দিন শেষে একটুখানি সময় তার সঙ্গে কাটান এবং তার অনুভূতিগুলো শোনার চেষ্টা করুন। শিশুদের মাঝে আত্মবিশ্বাস এবং ভরসা জোগানো অভিভাবকের দায়িত্ব। শিশুর আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে, সে একগুঁয়ে হয়ে উঠতে পারে এবং আবার অনেক সময় হীনমন্যতায় ভুগতেও পারে।
সন্তান পালনে ‘লাইট হাউস পেরেন্টিং’ কি জেনে নিন
শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধান করা সহজ হয়। শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত মতামত প্রকাশের সুযোগ দিলে, তারা নিজের ভুল এবং সঠিক কাজগুলো সহজেই বুঝতে পারে। অভিভাবকরা যদি শিশুর সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন, তবে তাদের জেদ এবং একগুঁয়ে আচরণকে অনেক সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
https://www.youtube.com/live/fYUHqDzn85c?si=0-hMvSBnd9u_Z9VS









