শ্রাবণী দাসগুপ্ত, ১৭ মার্চঃ কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘বীর কন্যা প্রীতিলতা’ ছবিটি প্রদর্শিত হল ১৬ই মার্চ। পরাধীনতার শৃঙ্খল  মোচনে আত্মাহুতি দানকারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের সংগ্রামী জীবন কাহিনী নির্ভর সেলিম হোসেনের গল্প অবলম্বনে  বাংলাদেশে নির্মিত হয়েছে প্রদীপ ঘোষ পরিচালিত পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বীর কন্যা প্রীতিলতা’। ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনের  অঙ্গ হিসেবে কলকাতা প্রেসক্লাবে এদিন এই চলচ্চিত্র প্রথম প্রদর্শনী হয়।

ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস বাঙালির রক্তের রঞ্জিত হয়েছিল । সারা ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নকে আন্দোলিত করেছিল চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহ। মাস্টারদা সূর্য সেনের সাহসিকতাপূর্ণ অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে চট্টগ্রাম চারদিন স্বাধীন ছিল।কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর, পাঠক জানতে পারে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের অনেক অজানা কাহিনী।

চট্টগ্রামের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রীতিলতার কিশোরী জীবনের সহজ-সরল ছোটবেলার বহু গল্প রয়েছে এই উপন্যাসে। কলকাতার বেথুন কলেজে অধ্যায়নকালে প্রীতিলতার চেতনায় অঙ্কুরিত হয় স্বদেশ মুক্তির। চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী ছাত্র রামকৃষ্ণ বিশ্বাস  হত্যার মামলায় আসামী হয়ে আলিপুর কারাগারে বন্দী ছিলেন । হাইকোর্ট তার ফাঁসির নির্দেশ দেয়। রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসির খবর তিনি জানতে পারেন সংবাদপত্র থেকে। এরপরই রামকৃষ্ণ বিশ্বাস কে একবার দেখার জন্য তিনি উদ্যোগী হন ।

রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জেলারের কাছে আবেদন করে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের বোন অমিতা দাসের পরিচয় দিয়ে প্রীতিলতা তাকে দেখতে যেতেন। এভাবেই প্রতিনিয়ত অমিতা দাস ছদ্মনামে প্রীতিলতা রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের  কাছে দেখা করতে যেতেন এবং একসময় তা প্রণয়ের দিকে এগিয়ে যায়। রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসি হবার পর আহত হৃদয় নিয়ে প্রীতিলতা চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। সেখানে মাস্টারদা সূর্যসেনের সাথে সাক্ষাৎ করে সরাসরি লড়াইয়ে যোগ দেন। পলাতক জীবনে মাস্টারদা তাকে ইউরোপিয়ান ক্লাব হামলার দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। হামলায় প্রীতিলতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। গ্রেফতারি এড়াতে সাইনাইড গ্রহণ করে জীবন বিসর্জন দেন।

ঐতিহাসিক এইসব ঘটনার বিবরণ নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশা। রামকৃষ্ণ বিশ্বাস চরিত্রে মনোজ প্রামানিক এবং মাস্টারদা সূর্য সেন এর চরিত্রে কামরুজ্জামান তাপু। সংগীত পরিচালনা করেছেন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদার।

Article Bottom Widget

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর