ব্যুরো নিউজ, ৫ই জানুয়ারী ২০২৬ : ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয়ভাবে আটকের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। একদিকে দেশটির নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন যে, “সঠিক কাজ” না করলে তার পরিণতি মাদুরোর চেয়েও খারাপ হতে পারে।
ডেলসি রদ্রিগেজের শান্তি ও সার্বভৌমত্বের বার্তা
ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ডেলসি রদ্রিগেজ তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমাদের জনগণ এবং এই অঞ্চল যুদ্ধ নয়, শান্তি ও সংলাপের দাবিদার।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে পারস্পরিক উন্নয়নের লক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করতে আগ্রহী। রদ্রিগেজ সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা কোনো বাহ্যিক হুমকি ছাড়া বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও তেলের ওপর নজর
ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেলসি রদ্রিগেজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তাকে অবশ্যই সঠিক পথ বেছে নিতে হবে। অন্যথায় তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন যা মাদুরোর থেকেও ভয়াবহ হতে পারে।” ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে, মাদুরো কোনো বাধা ছাড়াই ধরা দিয়েছেন, কিন্তু রদ্রিগেজ যদি সহযোগিতা না করেন তবে ফলাফল হবে ভিন্ন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ বা নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। তিনি বলেন, “দেশটিকে পুনর্গঠনের জন্য আমাদের তেল এবং অন্যান্য সম্পদের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। আমাদের তেল কোম্পানিগুলো সেখানে গিয়ে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং পরিকাঠামো ঠিক করবে।”
নিউ ইয়র্ক আদালতে মাদুরোর হাজিরা
এদিকে, শনিবারের সেই ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ (Operation Absolute Resolve) অভিযানে বন্দি নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে রাখা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টায় (স্থানীয় সময়) তাদের নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস (Narco-terrorism), যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কার হাতে?
কারাকাসে পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে। মাদুরো-পন্থী সামরিক বাহিনী আপাতত ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দিলেও ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, যুক্তরাষ্ট্র পর্দার আড়াল থেকে ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের দাবি, উপযুক্ত ও নিরাপদ কোনো সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে।



















