Vandemataram celebrations pm modi

ব্যুরো নিউজ ০৭ নভেম্বর ২০২৫ :  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার নয়া দিল্লীর ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ অর্থাৎ ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বর্ষব্যাপী স্মারক অনুষ্ঠানের সূচনা করিলেন। এই দিন তিনি একটি স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রা প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীকে এই অমর রচনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

 

বর্ষব্যাপী উদযাপনের সূচনা: নতুন শক্তি ও আত্মবিশ্বাস

বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মোদী এই গানকে নতুন উদ্দীপনার উৎস হিসাবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “‘বন্দে মাতরম’ শব্দটি আমাদের বর্তমানে আত্মবিশ্বাস পূর্ণ করে, সেই সাহস যোগায় যে কোনও লক্ষ্যই দুর্লঙ্ঘ্য নহে।”

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “আমরা আজ ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন করিতেছি; ইহা আমাদের নতুন অনুপ্রেরণা দিবে, দেশের জনতাকে নতুন শক্তিতে পূর্ণ করিবে।” মোদী আরও বলেন যে, “ভারত এক রাষ্ট্র হিসাবে সেই কুণ্ডন হইয়া উঠিয়াছে, যে অতীতের প্রতিটি আঘাত সহ্য করিয়াও অমরত্ব লাভ করিয়াছে।”

এই অনুষ্ঠানটি ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর হইতে ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করিল। তিনি একটি স্মারক পোর্টালেরও উদ্বোধন করেন। এই উদযাপনের অংশ হিসাবে, মূল অনুষ্ঠানের সহিত সংগতি রাখিয়া সমাজের সকল স্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে সকাল ৯:৫০ নাগাদ জনসমক্ষে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণের গণ-সঙ্গীত পরিবেশিত হইবে।

Vande Mataram 150 years : স্বাধীনতা আন্দোলনের মন্ত্র ‘বন্দে মাতরম’–এর দেড়শ’ বছর পূর্তি । জাতীয় চেতনার প্রতীক ।

বঙ্কিমচন্দ্রের কালজয়ী সৃষ্টি ও ইতিহাসের পাতা

১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর অক্ষয় নবমীর শুভক্ষণে সাহিত্য-সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেন। এই বৎসর সেই রচনার ১৫০ বছর পূর্ণ হইল।

এই গানটি প্রথমে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের অংশ হিসাবে সাহিত্য পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শন’-এ প্রকাশিত হয়। স্তোত্রটি মাতৃভূমিকে শক্তি, সমৃদ্ধি এবং দেবত্বের প্রতিমূর্তি হিসাবে আবাহন করে, যাহা ভারতের জাগরণ ও আত্মসম্মানের এক কাব্যিক প্রকাশ ছিল।

দেবী দুর্গার বন্দনা ও ‘ঐতিহাসিক পাপ’–এর অভিযোগ

জাতীয় স্তোত্রের ১৫০ বছর পূর্তির এই শুভলগ্নেই, গানটি হইতে দেবী মা দুর্গার বন্দনা-যুক্ত স্তবক বাদ দেওয়ার বিতর্ক পুনরায় মাথাচাড়া দিল।

বিজেপির মুখপাত্র সি আর কেশবন শুক্রবার X-এ এক পোস্টে কংগ্রেসের প্রতি অভিযোগ আনেন যে, জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে ১৯৩৭ সালে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’-এর স্তবকগুলি বাদ দেওয়া হইয়াছিল, যেখানে দেবী দুর্গার স্তুতি ছিল।

কেশবনের অভিযোগ: “‘বন্দে মাতরম’ কোনো বিশেষ ধর্ম বা ভাষার সম্পত্তি ছিল না। কিন্তু কংগ্রেস এই গানটিকে ধর্মের সহিত যুক্ত করিয়া এক ‘ঐতিহাসিক পাপ ও মহাভুল’ করিয়াছিল। নেহরুর অধীনে কংগ্রেস ধর্মীয় কারণ দেখাইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’-এর সেই সমস্ত স্তবক সরাইয়া ফেলে, যাহাতে দেবী মা দুর্গার স্তুতি ছিল।”

Rahul Gandhi : ভোট চুরির ‘H ফাইল’ প্রকাশ্যে আনলেন রাহুল: ‘ব্রাজিলিয়ান মডেল’ সেজে ২২ বার ভোট! ‘কেন আপত্তি তোলেননি বুথ এজেন্টরা?’ প্রশ্ন কমিশনের।

নেহরু-সুভাষ বিতর্ক ও বিভাজনের বীজ

কেশবনের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৩৭ সালের ফৈজপুর অধিবেশনে কংগ্রেস কেবলমাত্র প্রথম দুই স্তবক গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা  “সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর তোষণার্থে” করা হইয়াছিল।

তিনি ১৯৩৭ সালের ২০ অক্টোবরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নেহরুর লেখা একটি চিঠিরও উল্লেখ করেন, যেখানে নেহরু কথিতভাবে লিখেছিলেন যে, গানটির পটভূমি মুসলিমদের ‘বিরক্ত’ করিতে পারে। যদিও নেতাজি বসু ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ, মূল সংস্করণের জন্য দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছিলেন।

কেশবনের মতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদী যেখানে এই ‘গৌরবময় বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণ সংস্করণের গণ-আবৃত্তি দ্বারা সার্ধশতবর্ষ উদযাপন করিতেছেন, সেখানে যুব প্রজন্মের জানা প্রয়োজন যে কীভাবে কংগ্রেস ‘সাম্প্রদায়িক এজেন্ডার’ কাছে নতজানু হইয়া এই গানের ‘বিকৃত’ অংশকে গ্রহণ করিয়াছিল।

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর