Vande Mataram 150 yrs

ব্যুরো নিউজ, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর পর এবার জাতীয় গান (National Song) ‘বন্দে মাতরম্’-এর সম্মান ও গরিমা রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে বন্দে মাতরম্ ব্যবহারের নিয়মাবলি এবং প্রটোকল স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এখন থেকে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে এই গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস কর্তৃক বর্জিত চারটি স্তবক পুনরায় ফিরিয়ে এনে সম্পূর্ণ ৬টি স্তবকের সংস্করণটিকেই ‘অফিসিয়াল’ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।


ফিরে এল মূল ৬টি স্তবক

১৮৭০-এর দশকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এবং ১৮৮২ সালে তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রকাশিত এই স্তোত্রটির প্রথম দুটি স্তবককে ১৯৫০ সালে জাতীয় গানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে বন্দে মাতরম্-এর সম্পূর্ণ ৬টি স্তবকই গাওয়া বা বাজানো হবে। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস যে ৪টি স্তবক বাদ দিয়েছিল, সেগুলিকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সম্পূর্ণ সংস্করণটির সময়সীমা হবে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।

Vande Mataram 150 years : বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি: মোদীর উদযাপনে দেশজুড়ে ‘পূর্ণ সংস্করণের’ স্বাধিনতার মন্ত্র , দেবী দুর্গা বন্দনার অংশ বাদ দেওয়া বিতর্কে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া স্তবকগুলি দেওয়া হলো:

“কোটি-কোটি কণ্ঠ কলকল নিনাদ করালে, কোটি-কোটি ভুজৈর্ধৃত খরকরবালে, কে বলে মা তুমি অবলে! বহুবলধারিণীং নমামি তারিণীং, রিপুদলবারিণীং মাতরম্! বন্দে মাতরম্!

তুমি বিদ্যা, তুমি ধর্ম, তুমি হৃদি, তুমি মর্ম, ত্বং হি প্রাণাঃ শরীরে! বাহুতে তুমি মা শক্তি, হৃদয়ে তুমি মা ভক্তি, তোমারই প্রতিমা গড়ি মন্দিরে-মন্দিরে। বন্দে মাতরম্!

ত্বং হি দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী, কমলা কমলদলবিহারিণী, বাণী বিদ্যাদায়িনী, নমামি ত্বাং নমামি কমলাম্, অমলাং অতুলাম্, সুজলাং সুফলাং মাতরম্! বন্দে মাতরম্

শ্যামলাং সরলাং সুস্মিতাং ভূষিতাম্, ধরণীং ভরণীং মাতরম্! বন্দে মাতরম্।”


অনুষ্ঠানের ক্রম ও আচরণবিধি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে:

  • ক্রম নির্ধারণ: যে সমস্ত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় গান উভয়ই থাকবে, সেখানে জাতীয় গান (বন্দে মাতরম্) জাতীয় সংগীতের আগে পরিবেশিত হবে।

  • সম্মান প্রদর্শন: জাতীয় গান চলাকালীন উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে (Stand at attention)।

  • রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান: রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থান, পতাকোত্তোলন এবং পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম্ বাজানো বাধ্যতামূলক।

  • সূচনা সংকেত: কোনো ব্যান্ডের মাধ্যমে গানটি পরিবেশিত হলে ড্রাম রোল বা বিউগলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘোষণা করতে হবে।


স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব

নতুন বিধিমালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জাতীয় প্রতীকের প্রতি সচেতনতা ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কুলগুলিতে মর্নিং অ্যাসেম্বলি বা প্রাতঃকালীন সভায় বন্দে মাতরম্ গাওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।


Vande Mataram : বঙ্কিমচন্দ্রের রচিত ‘রণহুঙ্কার’ নিয়ে সংসদে বিশেষ বিতর্ক; কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর।

সিনেমা হলের জন্য বিশেষ ছাড়

সরকারি অনুষ্ঠানে কড়াকড়ি থাকলেও বিনোদন জগতের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা বজায় রাখা হয়েছে। সিনেমা হলের ভেতরে যদি কোনো তথ্যচিত্র বা সিনেমার সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে বন্দে মাতরম্ বাজানো হয়, তবে দর্শকদের উঠে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। দর্শকদের বিভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস

বন্দে মাতরম্-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের মাঝেই এই নির্দেশিকা এল। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই গানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকার গানের মূল অংশ বাদ দিয়ে এর মূল চেতনার অবমাননা করেছে। বর্তমানে কোনো নতুন আইন বা সংবিধিবদ্ধ সংশোধনী না আনা হলেও, জাতীয় সংগীতের সমতুল্য একটি প্রটোকল কাঠামোর মধ্যে বন্দে মাতরম্-কে নিয়ে আসাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

Article Bottom Widget

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর