ব্যুরো নিউজ, ৯ই জানুয়ারী ২০২৬ : বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার একাধিপত্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৭ জানুয়ারি) একটি প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোরেন্ডাম বা স্মারকে স্বাক্ষর করে তিনি মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, কনভেনশন এবং চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মতে, এই সংস্থাগুলি আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করছে।
তালিকার শীর্ষে ৬৬টি সংস্থা: কী আছে এই নির্দেশে?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা এই নির্দেশে মোট ৬৬টি সত্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে:
জাতিসংঘ বহির্ভূত (Non-UN) ৩৫টি সংস্থা: যার মধ্যে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’ (ISA), পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত ‘আইইউসিএন’ (IUCN) এবং জলবায়ু সংক্রান্ত গবেষণার প্রধান সংস্থা ‘আইপিসিসি’ (IPCC) অন্যতম।
জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত (UN Entities) ৩১টি সংস্থা: যার মধ্যে রয়েছে ইউএন পপুলেশন ফান্ড (UNFPA), ইন্টারন্যাশনাল ল কমিশন, পিসবিল্ডিং কমিশন এবং ইউএন ওয়াটার-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলি।
হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “আমেরিকা ফার্স্ট। আজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন যা আর মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছে না।”
USA seize Russian oil tanker : মস্কোর হুঁশিয়ারি অগ্রাহ্য করে রুশ জাহাজ আটক; যুদ্ধের পদধ্বনি কি আটলান্টিকে?
কেন এই প্রত্যাহার? করদাতার অর্থের সাশ্রয় ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা
হোয়াইট হাউসের দাবি, এই সংস্থাগুলি আমেরিকার ওপর ‘আমূল জলবায়ু নীতি’ এবং ‘বৈশ্বিক শাসন’ (Global Governance) চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
অর্থ অপচয়: মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, আমেরিকার করদাতারা এই সংস্থাগুলিতে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার ব্যয় করলেও বিনিময়ে কোনো সুফল পাচ্ছে না। উল্টো এই সংস্থাগুলি প্রায়ই মার্কিন নীতির সমালোচনা করে।
সার্বভৌমত্ব: ট্রাম্পের মতে, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলি অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন আইনের ওপর হস্তক্ষেপ করে যা সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
বিশ্ব জলবায়ু ও জ্বালানি নীতিতে বড় ধাক্কা
এই সিদ্ধান্তের ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন রোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এবার সরাসরি ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’ এবং ‘আইপিসিসি’র মতো সংস্থা থেকে বিদায় নেওয়া আমেরিকার বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবকে আরও প্রকট করল। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (IRENA) এবং গ্লোবাল কাউন্টার-টেরোরিজম ফোরাম থেকেও নাম প্রত্যাহার করছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদের পথে আমেরিকা: ধারাবাহিক পদক্ষেপ
এটি ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প বৈশ্বিক সংস্থা থেকে আমেরিকার অংশগ্রহণ কমিয়ে আনছেন।
১. জানুয়ারি ২০২৫: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু।
২. জুলাই ২০২৫: ইউনেস্কো (UNESCO) থেকে নাম প্রত্যাহার।
৩. জানুয়ারি ২০২৬: ৬৬টি সংস্থা থেকে একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার এই বড় ঘোষণা।
প্রতিক্রিয়া: আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ
জাতিসংঘ এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে যে, চাঁদা দেওয়া কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয় বরং এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। পাওনা পরিশোধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণ পরিষদে তার ভোটাধিকার হারাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। অন্য দেশগুলি মনে করছে, আমেরিকার এই প্রস্থান বিশ্বমঞ্চে চীনের মতো দেশগুলির আধিপত্য বিস্তারের পথ আরও প্রশস্ত করে দেবে।



















