ব্যুরো নিউজ, ৫ই জানুয়ারী ২০২৬ : ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই অভাবনীয় সামরিক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযানের সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেছেন।
কারাকাসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও জরুরি অবস্থা
শনিবার ভোররাতে কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার মিরান্ডা, আরাগওয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যে অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া একাধিক যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার দেখার কথা জানিয়েছেন। বিস্ফোরণে কারাকাসের একটি সামরিক হ্যাঙ্গার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি এই হামলাকে সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং ‘কাপুরুষোচিত অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
Bangladesh Khaleda Zia : খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারত: ঢাকায় তারেক রহমানের হাতে মোদীর শোকবার্তা পৌঁছে দিলেন জয়শঙ্কর
যেভাবে বন্দি হলেন মাদুরো
জানা গেছে, মার্কিন বিশেষ বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রায় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের এক ঝটিকা অভিযানে মাদুরোকে তার বাসভবন থেকে আটক করা হয়। এরপর তাকে প্রথমে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আইও জিমা’-তে (USS Iwo Jima) নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে বিমানে করে সরাসরি নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের হুঙ্কার ও মার্কিন অভিযোগ
মার-এ-লাগো থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “মাদুরো এবং তার স্ত্রী এখন মার্কিন হেফাজতে। ভেনেজুয়েলা একটি ‘নার্কো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল।” ট্রাম্পের অভিযোগ, মাদুরো প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করছিল এবং নিজ দেশের সম্পদ লুটে নিচ্ছিল। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, একটি যথাযথ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালিয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ
ভেনেজুয়েলার এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং সেখানে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ: আদালতে হাজিরা
আগামী সোমবার দুপুরে নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে হাজির করার কথা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অর্থ পাচার এবং নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি জানিয়েছেন, “মার্কিন মাটিতে মার্কিন আদালতেই মাদুরোকে ন্যায়ের মুখোমুখি হতে হবে।”



















