ব্যুরো নিউজ, ৩১ মার্চ : ওডিশার কটকে ঘটে গেল ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। রবিবার সকাল ১১:৫৪ নাগাদ নেরগুন্ডি স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়ে যায় বেঙ্গালুরু-কামাখ্যা এসি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের ১১টি কামরা। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের ২২ বছর বয়সী যুবক শুভঙ্কর রায়। কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন।
শুভঙ্করের শেষ মুহূর্তের কথা
শুভঙ্কর তাঁর মা চিত্রা রায়ের সঙ্গে বেঙ্গালুরু থেকে কামাখ্যা যাচ্ছিলেন। মা তাঁকে বলেছিলেন, “দুপুরের খাবার খেয়ে নাও।” শুভঙ্কর জবাব দিয়েছিলেন, “হাত ধুয়ে আসছি।” এরপরই আচমকা ভয়ংকর ঝাঁকুনি! ট্রেনের কামরাগুলো লন্ডভন্ড হয়ে যায়, আর শুভঙ্কর ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
পরিবারের শোক ও অসহায়তা
শুভঙ্কর ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। তাঁর মৃত্যুতে মা চিত্রা রায় এবং বৃদ্ধ জ্যাঠা বিমল রায় একেবারে ভেঙে পড়েছেন। বিমল রায় কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “এখন কী হবে আমাদের?” আর চিত্রা রায় বারবার জিজ্ঞাসা করছেন, “আমার ছেলেকে শেষবারের মতো কবে দেখতে পাব?”
PM Modi-র US সফরঃ শেয়ার বাজারের অস্থিরতা নিয়ে কি কথা বলবেন মোদী?
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও সহায়তা
শুভঙ্করের মৃত্যুর খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ারের এসডিপিও শ্রীনিবাস এমপি-সহ সরকারি আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে যান। জেলা প্রশাসনের তরফে পরিবারকে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুভঙ্করের মাকে আনার জন্য পরিবারের কারও কটক যাওয়ার ব্যবস্থা নেই, যা তাঁদের অসহায় পরিস্থিতিকে আরও গভীর করেছে।
দুর্ঘটনার তদন্ত ও ট্রেন চলাচলের প্রভাব
ইস্ট কোস্ট রেলওয়ে (ইসিওআর) দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। দ্রুত উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার ফলে হাওড়া-চেন্নাই রুটে ট্রেন চলাচল বেশ কিছুক্ষণ ব্যাহত হয়। ধৌলি এক্সপ্রেস ও নীলাচল এক্সপ্রেসের মতো বেশ কয়েকটি ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে।ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু শুভঙ্করের পরিবারের শূন্যতা কোনো সহায়তাই পূরণ করতে পারবে না। শুভঙ্করের মা শুধু একটাই প্রশ্ন করছেন—“আমার ছেলেকে শেষবারের মতো কবে দেখতে পাব?”