ব্যুরো নিউজ, ২৮শে জানুয়ারী ২০২৬ : বুধবার সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর ভাষণে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের গত ১০-১১ বছরের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার রূপরেখা পেশ করেন। দুর্নীতি দমন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নারীশক্তির উত্থানকে তিনি সরকারের প্রধান সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সামাজিক ন্যায় ও দারিদ্র্য বিমোচন
রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমান সরকার দলিত, অনগ্রসর এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতার সাথে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১০ বছরে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। রাষ্ট্রপতির কথায়, “আমার সরকার প্রকৃত সামাজিক ন্যায়ে বিশ্বাসী। ২০১৪ সালে যেখানে মাত্র ২৫ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ছিলেন, আজ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ কোটিতে।”
MGNREGA-র বদলে নতুন আইন: বিরোধীদের প্রতিবাদ
গ্রামীণ ভারতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক বড়সড় সংস্কারের কথা ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, ইউপিএ আমলের MGNREGA-র পরিবর্তে এখন ‘বিকশিত ভারত-জি রাম জি’ (Viksit Bharat-G RAM G) আইন কার্যকর করা হয়েছে। এই নতুন আইনের অধীনে গ্রামীণ এলাকায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতির এই ঘোষণার সময় বিরোধী সাংসদরা আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং আইনটি প্রত্যাহারের দাবি করেন। অন্যদিকে, এনডিএ-র সাংসদরা টেবিল চাপড়ে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
নারীশক্তির জয়যাত্রা
সরকারের প্রগতিশীল চিন্তাধারার ফলে নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। তিনি বলেন, “কিছু মাস আগে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (NDA) থেকে মহিলা ক্যাডেটদের প্রথম ব্যাচ উত্তীর্ণ হয়েছে। এটি দেশের ক্ষমতায়নে ‘নারী শক্তি’র অগ্রণী ভূমিকার প্রমাণ।”
জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমন
পহেলগাম জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নেওয়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন যে, ভারতের ওপর যে কোনো আক্রমণের জবাব হবে শক্তিশালী ও নির্ণায়ক। তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ (Indus Water Treaty) আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর কাজ চলছে।
ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ
ভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি এবং সর্দার প্যাটেলের ১৫০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই মহতী সৃষ্টি দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করছে। এছাড়া তিনি ভুল তথ্য (Misinformation) এবং ‘ফেক কন্টেন্ট’-কে গণতন্ত্র ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এক বড় বিপদ হিসেবে সতর্ক করে দেন।




















