trump pahlavi vs khomeini

ব্যুরো নিউজ, ১৪ই জানুয়ারী ২০২৬ : ইরানের রাজপথ এখন এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী। গত ১৭ দিন ধরে চলা অভূতপূর্ব সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মোড় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সমস্ত বৈঠক বাতিল করে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্রাম্পের কড়া বার্তা: “সাহায্য আসছে”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানি বিক্ষোভকারীদের “দেশপ্রেমিক” আখ্যা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি লেখেন, “আপনারা লড়াই চালিয়ে যান এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করুন। হত্যাকারী ও অত্যাচারীদের নাম নথিবদ্ধ করে রাখুন। তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। সাহায্য আসছে (HELP IS ON ITS WAY)।” ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতক্ষণ না এই “কাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাকাণ্ড” বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে আমেরিকা আলোচনায় বসবে না। মিছিগানের একটি গাড়ি কারখানায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি আরও বলেন, ইরান সরকার এখন আলোচনার জন্য মরিয়া হয়ে যোগাযোগ করলেও, আমেরিকা সামরিক পদক্ষেপসহ “খুব শক্তিশালী বিকল্প” নিয়ে ভাবছে।

Iran : ইরানে রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ: ১৭ দিনে নিহতের সংখ্যা ২৫০০ ছাড়াল, আন্দোলনকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

রেজা পাহলভির আবেদন: “আপনারা প্রজাতন্ত্রের নয়, দেশের সেনা”

ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতি এক আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনাদের এবং এই স্বৈরাচারী শাসনের মধ্যে এখন এক রক্তের সমুদ্র তৈরি হয়েছে। আপনারা জাতীয় সেনাবাহিনী, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের বাহিনী নন। দেশের মানুষকে রক্ষা করা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব।” তিনি দ্রুত সেনাদের পক্ষ ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং মনে করিয়ে দিয়েছেন যে হাতে আর বেশি সময় নেই।

মৃত্যুদণ্ড ও মানবাধিকার সংকট: এরফান সোলতানি

ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে, ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির ফাঁসি আজ (বুধবার) কার্যকর হওয়ার কথা। কোনো আইনি সহায়তা বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁকে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা ‘মোহরেবে’র অভিযোগে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ফাঁসির খবরের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, যদি ইরান সরকার ফাঁসি কার্যকর শুরু করে, তবে আমেরিকাকে “এমন কিছু করতে হবে যা বিশ্ব আগে দেখেনি।”

ইরানের পাল্টা অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক চাপ

ইরান সরকার এই পরিস্থিতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকেই “ইরানিদের প্রধান হত্যাকারী” বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ইরান রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে আমেরিকার হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিয়েছে। তবে এইচআরএএনএ (HRANA) এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। ১৮৭টি শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইতিমধ্যে ১০,০০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

Iran : ইরানে খোমেনি শাসনের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিক্ষোভ: বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে মার্কিন হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

উপসংহার

ইরানের অর্থনীতি এবং কারেন্সি রিয়ালের পতনের ফলে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন খামেনেই শাসনের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের “সাহায্য আসছে” বার্তা এবং এরফান সোলতানির সম্ভাব্য ফাঁসি—এই দুটি ঘটনাই আগত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর