ব্যুরো নিউজ, ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ : গত শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনীতে (Dubai Air Show) ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তেজস যুদ্ধবিমানের মর্মান্তিক পতনে নিহত হলেন বিমান চালক উইং কমান্ডার নমাংশ শ্যাল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে আছড়ে পড়লে তিনি ইজেক্ট করতে পারেননি।
৩৪ বছর বয়সী উইং কমান্ডার শ্যাল হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তেজস স্কোয়াড্রনের তৃতীয় ইউনিটের দায়িত্বে ছিলেন। জানা গেছে, মিগ-২১ (MiG-21)-এর মতো যুদ্ধবিমান চালনার অভিজ্ঞতা তাঁর আগে ছিল এবং তিনি সুখোই সু-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI) ওড়ানোর অভিজ্ঞতাও রাখতেন।
শোকাহত দেশ, গভীর সমবেদনা
এই দুঃসংবাদে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর শোক: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং উইং কমান্ডার শ্যালের মৃত্যুতে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি ‘এক্স’-এ (X) লিখেছেন, “দুবাই এয়ার শো-তে আকাশ-প্রদর্শনীর সময় এক সাহসী ও বীর বিমানচালকের মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। এই দুঃখের সময় দেশ তাঁদের পাশে দৃঢ় ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”
বিমানবাহিনীর শ্রদ্ধা: ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF) শনিবার উইং কমান্ডার শ্যালকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে যে তিনি ‘অবিচল প্রতিশ্রুতি’র সঙ্গে দেশের সেবা করে গেছেন। তাঁকে একজন ‘সমর্পিত যুদ্ধবিমান চালক এবং নিখুঁত পেশাদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বিমানবাহিনী।
মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধা: হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু শ্যালকে ‘একজন সাহসী, কর্তব্যপরায়ণ ও নির্ভীক পাইলট’ আখ্যা দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।
তদন্তের নির্দেশ ও দুর্ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ২:১০ মিনিট নাগাদ (স্থানীয় সময়) দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানটি শূন্যে উল্টে যাওয়ার পরে আর উচ্চতা ফিরে পেতে পারেনি এবং দ্রুত নীচে নেমে এসে মাটিতে আঘাত করে।
দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় বিমানবাহিনী একটি কোর্ট অফ ইনকোয়ারি (CoI) বা তদন্ত আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত ২০ মাসের মধ্যে তেজস যুদ্ধবিমানের এটি দ্বিতীয় দুর্ঘটনা।
পারিবারিক শোক ও অন্ত্যেষ্টি
উইং কমান্ডার শ্যাল কাংড়ার নাগরোটা ভগবানের প্যাট্টিয়ালকার গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্ত্রী এবং ৬ বছরের কন্যা সন্তানকে রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী আফশান আখতারও ভারতীয় বিমানবাহিনীর একজন উইং কমান্ডার।
রবিবার, প্রয়াত পাইলটের মরদেহ তামিলনাড়ুর সুলুর বিমানবাহিনী স্টেশন থেকে গ্রামে এসে পৌঁছায়। গভীর শোকের মধ্যে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এই বীর সন্তানের জীবন দেশের প্রতি ‘অবিচল প্রতিশ্রুতির’ উদাহরণ, যা চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।



















