ব্যুরো নিউজ, ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ : বিচারপতি সূর্য কান্ত সোমবার ভারতের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি (CJI) হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের শীর্ষে তাঁর ১৪ মাসের কার্যকাল শুরু হলো।
তিনি বিচারপতি ভূষণ আর. গাভাই-এর স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি ৬৫ বছর বয়সে রবিবার অবসর গ্রহণ করেছেন। প্রথা মেনেই বিদায়ী প্রধান বিচারপতি গাভাই তাঁর উত্তরসূরি হিসাবে বিচারপতি সূর্য কান্তের নাম সুপারিশ করেছিলেন এবং রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১২৪(২) ধারা অনুযায়ী তাঁকে নিয়োগ করেন। বিচারপতি সূর্য কান্ত ২০২৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর অবসর গ্রহণ করবেন।
বিচারপতি কান্তের গুরুত্বপূর্ণ রায়সমূহ
বিচারপতি সূর্য কান্তের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসাবে কার্যকাল বহু যুগান্তকারী রায় ও নির্দেশের দ্বারা চিহ্নিত:
সংবিধান ও জাতীয় গুরুত্ব: তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল সংক্রান্ত ৩৭০ ধারা রদ, বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং পেগাসাস স্পাইওয়্যার মামলার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের অংশ ছিলেন।
আইনের স্থগিতাদেশ: ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া বেঞ্চেও তিনি ছিলেন। আদালত নির্দেশ দেয় যে সরকার যতক্ষণ না এই আইনটি পর্যালোচনা করছে, ততক্ষণ এর অধীনে নতুন করে কোনো এফআইআর দায়ের করা যাবে না।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রায়: প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ‘এক পদ এক পেনশন’ (One Rank-One Pension) প্রকল্পকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ বলে রায় দিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত রায়দানকারী বেঞ্চেরও অংশ ছিলেন, যা প্রতিষ্ঠানটির সংখ্যালঘুদের মর্যাদা পুনর্বিবেচনার পথ খুলে দিয়েছে।
Supreme Court : রাজ্যপালের বিল সম্মতি: সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ঠিক হবে না, জানাল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি সূর্য কান্তের কর্মজীবন
১৯৬২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানার হিসার জেলায় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বিচারপতি সূর্য কান্তের জন্ম।
শিক্ষাজীবন: ২০১১ সালে কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পরীক্ষায় তিনি ‘প্রথম শ্রেণীতে প্রথম’ স্থান অধিকার করেন।
উচ্চপদে আরোহণ: ১৯৯৯ সালে তিনি হরিয়ানার কনিষ্ঠতম অ্যাডভোকেট জেনারেল হন। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে উন্নীত হন। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর তিনি হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত হন এবং ২০১৯ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত হন।
প্রধান বিচারপতি হিসাবে অগ্রাধিকার
দায়িত্ব নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁর কার্যকালে মামলার জট কমানো-কে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন।
মামলার জট: ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ডেটা গ্রিড (National Judicial Data Grid) অনুসারে, জুলাই মাস পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন আদালতে ৫.২৯ কোটিরও বেশি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে জেলা আদালতগুলিতে ৪.৬৫ কোটি, হাইকোর্টগুলিতে ৬৩.৩০ লক্ষ এবং সুপ্রিম কোর্টে ৮৬,৭৪২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
পরিকল্পনা: বিচারপতি কান্ত জানিয়েছেন, তিনি জেলা ও অধস্তন আদালতগুলির সমস্যা সমাধানে হাইকোর্টগুলির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির নিষ্পত্তির জন্য পাঁচ, সাত ও নয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করা হবে।
মধ্যস্থতার উপর জোর: তিনি মামলার চাপ কমাতে ‘মধ্যস্থতা’ (Mediation) কার্যকরভাবে প্রয়োগের উপর জোর দিয়েছেন।
নতুন প্রধান বিচারপতির কার্যকাল দেশের বিচার বিভাগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।



















