ব্যুরো নিউজ, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আই-প্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আজ সকাল থেকেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বালি ও কয়লা পাচার মামলার তদন্তে জোরদার অভিযান শুরু করেছে ইডি।
সুপ্রিম কোর্টে আই-প্যাক মামলার আপডেট
আই-প্যাকের দপ্তরে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি-র দায়ের করা মামলার শুনানি আজ মঙ্গলবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে হওয়ার কথা ছিল।
শুনানি স্থগিত: ইডি-র আইনজীবী হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি।
রাজ্য সরকারের অবস্থান: সোমবারই রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়ে ইডি-র মামলা খারিজের আবেদন জানায়। রাজ্যের দাবি, তল্লাশি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো বাধা দেননি; বরং তিনি দলের জরুরি নথিপত্র সংগ্রহ করতে অনুমতি নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন।
IPAC ED RAID : ভোটের আগেই উত্তপ্ত কলকাতা: ইডি বনাম মমতা সংঘাত আই-প্যাক দপ্তর ঘিরে
পশ্চিম বর্ধমানে ইডি-র হানা: নিশানায় বালি ও কয়লা মাফিয়া
সুপ্রিম কোর্টে আই-প্যাক মামলার শুনানির দিনেই পশ্চিম বর্ধমানের একাধিক জায়গায় হানা দেয় ইডি-র বিশেষ দল।
দুর্গাপুরে হানা: দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপ এলাকায় এক বালি ব্যবসায়ীর (প্রবীর দত্ত) বিলাসবহুল বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। শুরুতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হলেও পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন আধিকারিকরা।
অন্যান্য এলাকা: দুর্গাপুর ছাড়াও পাণ্ডবেশ্বর এবং নবগ্রামের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চলছে। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL) থেকে অবৈধ কয়লা উত্তোলন ও পাচারের যোগসূত্র খুঁজছে ইডি।
আই-প্যাক যোগ: তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, গত ৮ জানুয়ারি আই-প্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গিয়েছিল, যার ভিত্তিতেই আজকের এই অভিযান।
প্রেক্ষাপট: ৮ জানুয়ারির সেই বিতর্কিত তল্লাশি
গত ৮ জানুয়ারি আই-প্যাকের সল্টলেক দপ্তর এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা দেয়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেখানে উপস্থিত হন এবং বেশ কিছু ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের নির্বাচনী রণকৌশল সংক্রান্ত নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইডি ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।


















