ব্যুরো নিউজ ,৫ মে: কলকাতায় ছাদ-ব্যবসা নিয়ে তোলপাড়। শহরের অন্তত ৫০০ ঠিকানায় বিপজ্জনক ভাবে চলছে পানশালা ও রেস্তরাঁ। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, পুরসভা ও দমকলকে তারা ইতিমধ্যেই ৮৩টি জায়গার তালিকা পাঠিয়েছে। তবে দমকলের সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, সংখ্যাটা ৮৩ নয়, ৫০০-রও বেশি।
কি পদক্ষেপ নিচ্ছে পুরসভা
রোহিত শর্মা নাকি শুভমন গিল? ইংল্যান্ড সফরে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক নিয়ে ধোঁয়াশা তুঙ্গে!
এ বার একযোগে অভিযানে নামছে পুলিশ, পুরসভা এবং দমকল। পুরকর্তাদের দাবি, প্রশাসনিক শীর্ষ স্তর থেকে কড়া নির্দেশ এসেছে। সব অবৈধ ছাদ-ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হবে।কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এত দিন প্রশাসন চুপ ছিল কেন? কেন ১৪টি প্রাণহানির পরে তৎপরতা বাড়ল? মালিকদের দাবি, তাঁদের ব্যবসা বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে। অনেকের কথায়, পুরসভা এবং দমকলের বৈধ ছাড়পত্র তাঁদের রয়েছে।এক রেস্তরাঁ মালিকের মন্তব্য, ‘‘সব বন্ধ করলে তো শহরের অর্ধেকই বন্ধ হয়ে যাবে!’’ তার প্রশ্ন, ‘‘যে ভাবে হোটেল, অতিথিশালা, পানশালার নামে ব্যবসা চলে, সবটা বন্ধ করানো যাবে তো?’’
কাশ্মীর হামলার পর উত্তপ্ত ভারত-পাক সম্পর্ক, রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে পাকিস্তান
পুরসভার দাবি, ছাদ হল ‘কমন এরিয়া’। সেখানকার সিঁড়ি খোলা রাখতে হয়, যাতে কেউ বাধা না পান। অথচ বাস্তবে কোথাও ছাদে ব্যবসা, কোথাও আবার তালা ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। পুরসভার দল পরিদর্শনে গেলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রেই নজরদারিতে গাফিলতি হয়েছে। স্থানীয় থানার মাধ্যমেও চাপ দেওয়া হলেও পরে ‘সেটিং’ হয়ে যায়।
দমকলের অফিসাররা জানাচ্ছেন, ব্যবসার জন্য পুরসভার ছাড়পত্র থাকলেও দাহ্য বস্তু রাখলে দমকলের অনুমতি লাগবেই। কিন্তু বহু জায়গায় এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। দমকলের এক কর্তা বলেন, ‘‘হঠাৎ হানা দিতে পারি না। আইনে আগে নোটিস দিতে হয়। তখন রাতারাতি সব বন্দোবস্ত করে ফেলে মালিকরা।’’তিনি আরও জানান, ‘‘বড়বাজারের আগুনের পরে অডিট করতে গিয়ে দেখি, যেখানেই ছাড়পত্র দিয়েছিলাম, সেখানে রাতারাতি বেআইনি নির্মাণ উঠে গেছে। গত দু’দিনে অন্তত ৮০টি জায়গা চিহ্নিত করেছি।’’
তৈমুরের ‘আদিপুরুষ’ অভিজ্ঞতা: বাবার রাবণ লুকে হতাশ, দিল তিব্র প্রতিক্রিয়া
কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা বলেন, ‘‘কোনটা বেআইনি, সেটা তাৎক্ষণিক বোঝা পুলিশের কাজ নয়। পুরসভা ও দমকল আগে পদক্ষেপ করবে। তবে এখন সব থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ছাদে চলা পানশালা, রেস্তরাঁ, হোটেলগুলির দিকে বিশেষ নজর রাখতে।’’উত্তর কলকাতায় দমকলের ছ’টি দল এবং দক্ষিণ কলকাতায় সাতটি দল জ়োন ভাগ করে ঘুরছে। বড়বাজারের ঘটনার পরে এই দলগুলিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে।তবে নাগরিকদের প্রশ্ন, এত দিন এই নজরদারি কোথায় ছিল? প্রশাসন কি এবার সত্যিই ৫০০-রও বেশি এই বিপজ্জনক ব্যবসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে, নাকি পুরনো ‘সেটিং’-এ ফিরে যাবে সব?


















