ব্যুরো নিউজ, ১৯শে নভেম্বর ২০২৫ : পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)-এর সদ্য প্রকাশিত একাদশ-দ্বাদশের ইন্টারভিউয়ের তালিকা লইয়া আবারও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হইয়াছেন যোগ্য শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তাদের মূল অভিযোগ, এই তালিকায় একাধিক অনিয়ম রহিয়াছে, যাহার মধ্যে অযোগ্য প্রার্থীদের নাম থাকা অন্যতম। কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করিয়া মামলাটি দায়ের করা হইয়াছে।
মামলাকারীদের মূল অভিযোগ কী?
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগগুলি নিম্নরূপ:
অযোগ্য প্রার্থীদের উপস্থিতি: মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একাধিক ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বা ‘কলুষিত’ প্রার্থীর নাম ইন্টারভিউয়ের তালিকায় স্থান পাইয়াছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কী ভাবে তাদের এই সুযোগ দেওয়া হইল, সেই প্রশ্ন তুলিয়াছেন প্রার্থীরা।
নতুন প্রার্থীদের বঞ্চনা: অভিযোগ উঠিয়াছে যে, এসএসসি অভিজ্ঞ প্রাথমিক শিক্ষকদের অতিরিক্ত ১০ নম্বর দিয়াছে। পার্টটাইম কর্মীরাও তাদের কাজের অভিজ্ঞতা দেখাইয়া একই সুবিধা নিয়াছেন। এর ফলে নতুন পরীক্ষার্থীরা, যাহারা সর্বোচ্চ নম্বর পাইয়াছেন, তাহাদের অনেকে ইন্টারভিউয়ে ডাক পান নাই।
নম্বর পেয়েও নাম নেই: চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ দাবি করেন যে, লিখিত পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বর পাইয়াও তাদের নাম ইন্টারভিউয়ের তালিকায় ওঠেনি। এমনকি আন্দোলনকারী যোগ্য শিক্ষকদের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়িয়াছে বলিয়া অভিযোগ।
আদালতে মামলার অনুমতি ও শুনানির সম্ভাবনা
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং মামলা দায়েরের অনুমতি চান। বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাদের আবেদন মঞ্জুর করিয়াছেন। আগামী বুধবার (আজ) এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রহিয়াছে।
এসএসসির দাবি
যদিও এসএসসি এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করিয়াছে। কমিশনের দাবি, তারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সমস্ত কিছু করেছে। একাদশ-দ্বাদশের ১২,৪৪৫টি শূন্যপদের জন্য লিখিত পরীক্ষার পর ২০ হাজার পরীক্ষার্থীর নামের ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করা হইয়াছে। কমিশনের বক্তব্য, একটি শূন্যপদের জন্য প্রায় ১৬ জন পরীক্ষার্থীকে ডাকা হইয়াছে। গত ১৮ নভেম্বর থেকে তাদের নথি যাচাইকরণ ও ইন্টারভিউয়ের প্রক্রিয়া চলিতেছে।



















