BJP Samik Bhattacharya

ব্যুরো নিউজ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে জনপ্রিয় উৎসব দুর্গাপূজা সোমবার থেকে শুরু হলেও, রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষত রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য, দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত। প্রথমত, দলের নতুন রাজ্য কমিটি গঠন শেষ করা এবং দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি-ভাষী মানুষের উপর হয়রানির অভিযোগ— এই দুই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যব্যাপী প্রচারের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ পাল্টা প্রচার কৌশল তৈরির প্রাথমিক নীল নকশা প্রস্তুত করা।

পূজার পরেই নতুন কমিটি ঘোষণার নির্দেশ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক বর্তমান রাজ্য কমিটির সদস্য জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চায় উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন রাজ্য কমিটি গঠনের কাজ শেষ করে তা ঘোষণা করা হোক। যদি সম্ভব হয়, এই সপ্তাহের দুর্গাপূজা শেষ এবং ১৮ অক্টোবর দিওয়ালির মধ্যবর্তী সময়ে ঘোষণা করতে হবে। এর ফলে নতুন রাজ্য কমিটি মাসের শেষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আগামী বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে। সেই কারণে, রাজ্য সভাপতিসহ শীর্ষ রাজ্য নেতৃত্ব এখন তালিকার চূড়ান্ত রূপ দিতে ব্যস্ত।

Durga Puja : বাঙালি শিল্পকলা ও দেশাত্মবোধের প্রদর্শনীতে মুগ্ধ রাজ্যসভার সাংসদ শ্রিংলা

তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচারের কৌশল

একইভাবে, ওই সদস্য জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) এবং বাঙালি হয়রানি— এই দুটি বিষয় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যেহেতু ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ প্রচার শুরু করেছে, তাই বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুততম সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পাল্টা প্রচার শুরু করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে।

তিনি যোগ করেন, “যদিও আমাদের রাজ্য নেতারা এই দুটি বিষয়ের বিরুদ্ধেই সময়ে সময়ে ব্যাখ্যা-বিবৃতি দিয়েছেন, কিন্তু তৃণমূলের এই প্রচারের বিরুদ্ধে তৃণমূল স্তর থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ পাল্টা প্রচার শুরু করা জরুরি। সেই জন্য, আমাদের রাজ্য নেতারাও এর নীল নকশাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে ব্যস্ত।”

Amit Shah : অমিত শাহের উদ্বোধিত পুজোয় ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’: সজল ঘোষের অভিযোগ খারিজ পুলিশের; ভিড়ের বিক্ষোভে উত্তেজনা।

‘এনআরসি’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ বিতর্ক

প্রথম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়াটিকে রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) চাপানোর একটি চক্রান্ত বলে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অবস্থানকে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের একটি কৌশল হিসেবে দেখছে। তাদের অভিযোগ, এটি মূলত সেইসব অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা, যারা পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

‘বাঙালি হয়রানি’র পাল্টা যুক্তি

বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি হয়রানির তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারের মোকাবিলা করার জন্য বিজেপি একটি ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করার পরিকল্পনা করছে। বিজেপি সেই বিষয়টি তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে যে, কীভাবে বর্তমান শাসনামলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পিছিয়ে পড়ার কারণে লক্ষ লক্ষ বাঙালি-ভাষী শ্রমিককে উন্নত জীবিকার সন্ধানে অন্যান্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে। শিল্পগত এই পশ্চাৎপদতার বিষয়টিকে সামনে এনে বিজেপি তৃণমূলের প্রচারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী পাল্টা যুক্তি তৈরি করতে চাইছে।

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর