Russian oil tanker seized by USA

ব্যুরো নিউজ, ৭ই জানুয়ারী ২০২৬ : উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে দুই সপ্তাহের রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ ‘মেরিনেরা’ (Marinera) জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ড (EUCOM)। মস্কোর পক্ষ থেকে জাহাজটিকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা মার্কিন বাহিনীর কবজায় চলে যায়।

ড্রামাটিক ধাওয়া এবং নাম বদল

মার্কিন কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘ইউএসসিজিসি মুনরো’ (USCGC Munro) গত দুই সপ্তাহ ধরে এই জাহাজটিকে অনুসরণ করছিল। জানা গেছে, জাহাজটির পূর্ব নাম ছিল ‘বেলা ১’ (Bella 1)। গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন কোস্ট গার্ড প্রথমবার জাহাজটিতে ওঠার চেষ্টা করলে ক্রুরা বাধা দেন এবং জাহাজটি গতিপথ পরিবর্তন করে আটলান্টিকের দিকে চলে যায়। ধাওয়া চলাকালীন মাঝসমুদ্রেই জাহাজটির নাম বদলে ‘মেরিনেরা’ রাখা হয় এবং রাশিয়ার পতাকায় এটি নিবন্ধিত হয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, রাশিয়ার সুরক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যেই এই মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল জাহাজটি।

রুশ নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও উত্তজনা

রিপোর্ট অনুযায়ী, মেরিনেরা-কে এসকর্ট বা সুরক্ষা দেওয়ার জন্য রাশিয়া একটি সাবমেরিন এবং যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল। আইসল্যান্ডের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় যখন মার্কিন বাহিনী জাহাজটি জব্দ করে, তখন রুশ নৌযানগুলো আশেপাশেই ছিল। তবে সরাসরি কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ফেডারেল কোর্টের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

মাদুরো গ্রেফতার ও ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন কয়েকদিন আগেই মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে কারাকাস থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ এখন থেকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। এই প্রেক্ষাপটে রুশ জাহাজ জব্দের ঘটনাটি আমেরিকার ‘নৌ অবরোধ’ (Naval Blockade)-এর অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Iran : ইরানে খোমেনি শাসনের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিক্ষোভ: বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে মার্কিন হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

মস্কো এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ এবং ‘আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৯8২ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রই অন্য দেশের নিবন্ধিত জাহাজের ওপর বলপ্রয়োগ করতে পারে না। ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে জানিয়ে রাশিয়া তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Article Bottom Widget

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর