ব্যুরো নিউজ, ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ : ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি থেকে শুরু করে পাকিস্তান সীমান্তে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ দমনের সাফল্যের কাহিনী। সোমবার দেশজুড়ে উদযাপিত হতে চলা প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি ভারতকে বিশ্বের একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেন।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সংস্কার
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, অদূর ভবিষ্যতে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। জিএসটি (GST) ব্যবস্থার যৌক্তিককরণ এবং শ্রম সংস্কারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তগুলি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শিল্পোদ্যোগের বিকাশ ঘটাবে।”
‘অপারেশন সিন্দুর’ ও সামরিক আত্মনির্ভরতা
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি গত বছরের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই নিখুঁত অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তান সীমান্তের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে এবং বহু সন্ত্রাসবাদীকে নির্মূল করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির কথায়, “প্রতিরক্ষা খাতে আমাদের আত্মনির্ভরতাই অপারেশন সিন্দুরের ঐতিহাসিক সাফল্যের চাবিকাঠি।” তিনি তাঁর সিয়াচেন সফর এবং সুখোই ও রাফাল যুদ্ধবিমানে ওড়ার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দেশবাসীর আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
নারী শক্তির জয়গান ও ‘বিকশিত ভারত’
রাষ্ট্রপতি মুর্মু তাঁর ভাষণে ‘নারী শক্তি’-কে বিকশিত ভারতের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, কৃষিক্ষেত্র থেকে মহাকাশ এবং স্বনির্ভরতা থেকে সশস্ত্র বাহিনী—সব জায়গাতেই ভারতের কন্যারা নিজেদের ছাপ রাখছেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে গত নভেম্বরে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয় এবং ব্লাইন্ড উইমেন টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা তিনি গর্বের সাথে উল্লেখ করেন। এছাড়াও দাবা বিশ্বকাপের ফাইনালে দুই ভারতীয় নারীর লড়াইকেও তিনি নারী শক্তির অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
বন্দেমাতরম্ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দেমাতরম্’-এর ১৫০ বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, কীভাবে তামিল কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতী এই গানটিকে দক্ষিণ ভারতে জনপ্রিয় করেছিলেন এবং শ্রী অরবিন্দ একে ইংরেজিতে অনুবাদ করে জাতীয় সংহতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তাঁর মতে, ‘বন্দেমাতরম্’ হলো আমাদের দেশের একটি গীতিময় জাতীয় প্রার্থনা যা উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিমকে এক সুতোয় বেঁধেছে।
Republic Day Parade : ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়া চমক: নদীর নামে বসার আসন, ‘বন্দে মাতরম’ ও স্বাধীনতার সংগ্রাম
নেতাজি ও সংবিধানের আদর্শ
গত ২৩ জানুয়ারি পালিত হওয়া নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী বা ‘পরাক্রম দিবস’-এর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নেতাজির ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান আজও জাতীয় গর্বের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। তিনি দেশের সংবিধানের নির্মাতা ও রূপকারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের যে আদর্শ সংবিধানে বর্ণিত আছে, তাই আমাদের প্রজাতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
রাষ্ট্রপতি শেষে আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব ক্রমাগত কমছে, যা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করছে। লিঙ্গ বৈষম্যহীন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রজাতন্ত্র গড়ার ডাক দিয়ে তিনি তাঁর ভাষণ শেষ করেন।




















