ব্যুরো নিউজ, ৬ই জানুয়ারী ২০২৬ : ইরানে গত কয়েকদিন ধরে চলা ব্যাপক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে ইরান সরকারকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই হুমকিকে “বেপরোয়া” অ্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, যেকোনো বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের ‘লকড অ্যান্ড লোড’ হুঁশিয়ারি
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “যদি ইরান সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় বা তাদের হত্যা করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত (Locked and Loaded) এবং যেকোনো সময় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম।” উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধংদেহী অবস্থা বিরাজ করছে।
তেহরানের কড়া জবাব ও ‘রেড লাইন’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লরিজানি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, “ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং মার্কিন স্বার্থের ক্ষতি করবে।”
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আলী শামখানি বলেছেন, “ইরানের নিরাপত্তা একটি ‘রেড লাইন’ (চরম সীমা)। কোনো হস্তক্ষেপকারী হাত যদি ইরানের নিরাপত্তার কাছে আসার চেষ্টা করে, তবে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।” তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সৈন্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
বিক্ষোভের নেপথ্যে অর্থনৈতিক সংকট
ইরানের মুদ্রার (রিয়াল) ব্যাপক পতন এবং আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে গত ছয়দিন ধরে এই বিক্ষোভ চলছে। ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর এটিই ইরানে দেখা দেওয়া সবথেকে বড় গণবিক্ষোভ। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২২টিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রেজা পাহলভীর সমর্থন ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভী মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সতর্কতা ইরানি জনগণকে সাহস ও আশা যুগিয়েছে।”
এদিকে, ইরান সরকার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ ও হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইরানি কর্তৃপক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।



















