pm modi pays tribute to netaji

ব্যুরো নিউজ, ২৩শে জানুয়ারী ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার সমাজমাধ্যমে (X) ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু পোস্টের মাধ্যমে নেতাজির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, নেতাজি ছিলেন নির্ভীক নেতৃত্ব এবং অটল দেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর আদর্শ আজও শক্তিশালী ভারত গড়ার পথে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেই মহীরুহ, যিনি আপসহীনভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।

স্মৃতির সরণি বেয়ে: হরিপুরা থেকে আহমেদাবাদ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নেতাজির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান:

  • ই-গ্রাম বিশ্বগ্রাম যোজনা (২০০৯): গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০৯ সালের ২৩শে জানুয়ারি তিনি এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন হরিপুরা থেকে, যা নেতাজির রাজনৈতিক জীবনে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। হরিপুরার মানুষ যেভাবে তাঁকে সেদিন অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন, তা আজও তাঁর স্মৃতিতে অমলিন।

  • আজাদ হিন্দ ফৌজ দিবস (২০১২): ২০১২ সালে আহমেদাবাদে এক বিশাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছিল, যেখানে পি এ সাংমার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

Netaji Subhas Chandra Bose Parakram Divas 2026 : আজ পরাক্রম দিবস: বীর যোদ্ধা নেতাজির ১২৯তম জন্মজয়ন্তীতে উৎসবে সামিল ভারতবর্ষ

নেতাজির হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার: বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রী মোদী পূর্বতন সরকারগুলির সমালোচনা করে বলেন যে, দশকের পর দশক যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের ‘এজেন্ডা’র সঙ্গে নেতাজির নাম খাপ খেত না। তাই সচেতনভাবে তাঁর অবদানকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ ঝেড়ে ফেলে নেতাজিকে তাঁর যোগ্য সম্মান দিতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলি হলো:
১. নথি প্রকাশ (Declassification): নেতাজি সংক্রান্ত গোপন ফাইল ও নথি জনসাধারণের সামনে আনা।
২. দ্বীপের নামকরণ: আন্দামান ও নিকোবরের ‘রস আইল্যান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দ্বীপ’ রাখা।
৩. বিজয় উৎসব: লালকেল্লায় আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপন এবং নেতাজির উত্তরসূরিদের সম্মান প্রদান।
৪. কর্তব্য পথে মূর্তি: দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের পাশে নেতাজির এক বিশাল গ্রানাইট মূর্তি স্থাপন করা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সাহসের প্রতীক হয়ে থাকবে।
৫. ক্রান্তি মন্দির: লালকেল্লায় নেতাজির ব্যবহৃত টুপি ও আজাদ হিন্দ ফৌজের ঐতিহাসিক স্মারক নিয়ে একটি বিশেষ সংগ্রহশালা তৈরি।

“তোমরা আমাকে রক্ত দাও…”: কালজয়ী অনুপ্রেরণা

১৮৯৭ সালে কটকের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিলেও বিলাসিতা ত্যাগ করে কণ্টকময় পথ বেছে নিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র। আইসিএস (ICS) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও তিনি ব্রিটিশের গোলামি করতে চাননি। তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র ছিল ত্যাগ ও সংগ্রাম। ২০২৬-এর এই পরাক্রম দিবসে তাঁর ১০টি অমর বাণী দেশবাসীকে আবারও উদ্বুদ্ধ করছে:

  • “রক্ত দিয়েই স্বাধীনতার মূল্য মেটানো সম্ভব। তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব!”

  • “স্বাধীনতা কেউ দেয় না, স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে হয়।”

  • “ইতিহাসে কোনো বড় পরিবর্তনই নিছক আলোচনার মাধ্যমে আসেনি।”

  • “মানুষের জীবনে সংগ্রামের কোনো স্বাদ না থাকলে অর্ধেক আনন্দই হারিয়ে যায়।”

  • “অন্যায় ও অবিচারের সাথে আপস করাই হলো সবথেকে বড় অপরাধ।”

Vasant Panchami : শুক্ল পঞ্চমী ও ব্রজরেণু: জ্ঞান যখন প্রেমের চরণে সমর্পিত

উপসংহার: ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নতি

প্রথাগত ইতিহাসের বাইরে গিয়ে আজ দেশ স্বীকার করছে যে, আজাদ হিন্দ সরকারের প্রধান হিসেবে নেতাজিই ছিলেন তাঁর মাতৃভূমির প্রথম ‘প্রধানমন্ত্রী’। যিনি তৎকালীন বিশ্বশক্তি এবং পরমাণু বোমার আস্ফালনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। আজকের ভারত কেবল তাঁর জন্মদিন পালন করছে না, বরং তাঁর সেই ‘দিল্লি চলো’র সংকল্পকে আধুনিক ভারতের উন্নতির লক্ষে আত্মস্থ করছে।

নেতাজি, লহ প্রণাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর