জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির নাম শুনলেই বাঙালির মন nostalgically সজাগ হয়ে ওঠে। বাঙালির সংস্কৃতি, গান, সাহিত্য, এমনকি রান্নার এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা এই বাড়ি। ঠাকুরবাড়ির রান্নার নিজস্বতা ও স্বাদ নিয়ে বাঙালির আগ্রহ চিরকালীন। সাধারণ খাবারেও নতুনত্ব আনতে ঠাকুরবাড়ির রাঁধুনিরা ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তেমনই এক ব্যতিক্রমী রান্না হল মরিচ ঝোল। একেবারেই নিরামিষ এই পদ, তবে স্বাদে অসাধারণ। সাধারণ ঝোলের থেকে একদম আলাদা, কারণ এখানে কোনও প্রচলিত গুঁড়ো মশলা ব্যবহার করা হয় না, অথচ স্বাদে কোনওরকম কমতি থাকে না। আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে তৈরি করবেন এই অনন্য স্বাদের রান্না।
মেথি বীজ শুধু রান্নাঘরের মসলা নয় আপনার স্বাস্থ্যের জন্য এক আশীর্বাদ!কিভাবে জানুন
উপকরণ:
- ১টি বড় আলু
- ২টি পটল
- ৭-৮ টুকরো কুমড়ো (ডুমো করে কাটা)
- ১টি রাঙা আলু
- ১টি ঝিঙে
- ১টি ছোট বেগুন
- ৪-৫টি বরবটি
- ৬টি কাঁচালঙ্কা
- ২ টেবিল চামচ কালোজিরে
- ১ চা-চামচ রাঁধুনি
- ১ কাপ দুধ
- ১ টেবিল চামচ ঘি
- ২ টেবিল চামচ সর্ষের তেল
- স্বাদমতো নুন
- সামান্য চিনি
গরম গরম সাদা ভাতের সঙ্গে থাকুক সুস্বাদু ডাব চিংড়ি, খেতে হবে ফার্স্ট ক্লাস
রন্ধনপ্রণালী:
১. সব সবজি ভালো করে ধুয়ে মাঝারি মাপের টুকরো করে কেটে নিন।
2. কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে তাতে আধ চা-চামচ কালোজিরে ও দুটি কাঁচালঙ্কা ফাটিয়ে ফোড়ন দিন।
3. সুগন্ধ বেরোলেই কেটে রাখা আলু দিয়ে দিন, সামান্য নুন ছিটিয়ে ভাজুন।
4. আলু কিছুটা ভাজা হয়ে এলে একে একে বাকি সব সবজি দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকুন।
5. বেগুন ও ঝিঙে সব শেষে দিন, যাতে বেশি নরম না হয়ে যায়। রান্নার সময় খেয়াল রাখতে হবে সবজির রং যেন অক্ষত থাকে।
6. সবজি ভাজা হয়ে গেলে পরিমাণমতো জল দিন এবং ফুটতে দিন।
7. এবার মিক্সিতে কালোজিরে, ৪টি কাঁচালঙ্কা এবং রাঁধুনি অল্প জল দিয়ে বেটে নিন।
8. বাটা মশলাটি এক কাপ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ফুটতে থাকা সবজির মধ্যে ঢেলে দিন।
9. ভালোভাবে মেশানোর পর স্বাদমতো নুন ও সামান্য চিনি যোগ করুন, তারপর ঢেকে দিন।
10. কিছুক্ষণ পর ঢাকনা খুলে এক চামচ ঘি ছড়িয়ে নেড়ে দিন।
11. আঁচ বন্ধ করে ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন, তারপর গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
ঠাকুরবাড়ির এই মরিচ ঝোলের আসল বৈশিষ্ট্য হল এর স্বাদ ও স্বাদ ধরে রেখে রান্নার পদ্ধতি। গুঁড়ো মশলা ছাড়াই শুধুমাত্র কয়েকটি উপাদানে কীভাবে অসাধারণ স্বাদ তৈরি করা যায়, তার এক চমৎকার উদাহরণ এটি। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলে এর স্বাদ যেন আরও বাড়িয়ে তোলে। একবার রান্না করলেই বুঝবেন, কেন ঠাকুরবাড়ির রান্নার এত কদর।