Jaish taps secular women driven terror cells

ব্যুরো নিউজ,  ১৭ই নভেম্বর ২০২৫ : দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় দেখা দিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো ‘সাদা পোশাকের সন্ত্রাস নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে হরিয়ানার এক অমুসলিম মহিলা ডাক্তারকে আটক করেছে, যিনি দক্ষিণ কাশ্মীরের একটি সরকারি মেডিকেল কলেজে কর্মরত। ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে খবর, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সন্ত্রাস মডিউলের যোগসূত্র পেয়েছে গোয়েন্দারা।

  • ডঃ প্রিয়াঙ্কা শর্মা: এই মহিলা ডাক্তার হরিয়ানার বাসিন্দা। তাঁকে দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগে আটক করা হয়েছে। তাঁর ভাড়া বাড়িতে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স দল তল্লাশি চালিয়ে একটি মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে। জিএমসি অনন্তনাগের একজন প্রাক্তন স্টাফ সদস্য আদীলের জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর নাম উঠে আসে। এই আদীলের মাধ্যমেই মডিউলটিকে লজিস্টিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

এই অমুসলিম ডাক্তারের যোগসাজশ ঘটনাটিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ইউপি-তে ২০০ ডাক্তার নজরদারিতে, জইশ-এর ₹২০ লাখ ফান্ড ট্রেইল

কাশ্মীর থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) রাজ্যের বিভিন্ন শহরে কর্মরত কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত প্রায় ২০০ জন মেডিকেল ছাত্র ও ডাক্তারকে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এদের মধ্যে লখনউ, কানপুর, মিরাট, সাহারানপুর এবং আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের ডাক্তার ও শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

  • আর্থিক লেনদেন: গোয়েন্দা সূত্রে রবিবার জানা গেছে, অভিযুক্ত ডাক্তার উমর, মুজাম্মিল ও শাহীন-এর সঙ্গে যুক্ত ₹২০ লাখ টাকার ফান্ড ট্রেইল উদ্ধার করা হয়েছে। এই অর্থ জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) হ্যান্ডলারের মাধ্যমে হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

  • অস্ত্রের সন্ধান: দিল্লি পুলিশের সূত্র রবিবার নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি কার্তুজ (দুটি সজীব এবং একটি খালি) ৯ মিমি ক্যালিবার-এর ছিল। এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ এবং সাধারণত নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে। এই আবিষ্কার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Delhi Car Blast : দিল্লি বিস্ফোরণে চাঞ্চল্যকর মোড়: উমর নবিই আত্মঘাতী বোমারু, ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত । উমরের বাড়ি ভাঙায় মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহর উদ্বেগ !

‘ম্যাডাম সার্জন’-এর ‘অপারেশন হামদর্দ’ ও নেটওয়ার্ক

জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ কম্যান্ডার ডঃ শাহীন যিনি ‘ম্যাডাম সার্জন’ কোড নামে পরিচিত, তিনি ‘অপারেশন হামদর্দ’ নামে মহিলাদের উগ্রপন্থায় নিয়োগের একটি গোপন উদ্যোগ চালাচ্ছিলেন।

  • নিয়োগের কৌশল: এই অপারেশনে সহানুভূতি ও ক্ষমতায়নের ছদ্মবেশে দুর্বল মহিলাদের প্রলুব্ধ করার জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ব্যবহৃত হতো। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মহিলাদের অর্থিক প্রলোভন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহিলাদের বিলাসবহুল জীবন এবং বিদেশে ভ্রমণের স্বপ্ন, এবং আদর্শগতভাবে উগ্রপন্থী মহিলাদের সরাসরি জিহাদের জন্য ব্যবহার করা হতো।

  • গোপন ভাষা: ডঃ শাহীনের নেতৃত্বাধীন ‘টিম ডি’-এর সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে কোড শব্দ ব্যবহার করত, যেমন— ‘স্পেশালিস্ট’, ‘হার্ট স্পেশালিস্ট’, ‘আই স্পেশালিস্ট’ ইত্যাদি। ‘মেডিসিন স্টক’ বলতে ছোট অস্ত্র এবং ‘অপারেশন থিয়েটার’ বলতে রেকি করার অঞ্চল বোঝানো হতো।

New Face of Terrorism : প্রাচুর্য সত্ত্বেও কেন বেছে নেওয়া হলো হত্যার নীলনকশা? ডাক্তার-ইমামের আড়ালে ধরা পড়লো আতঙ্কবাদের গোপন নেটওয়ার্ক

সাংবিধানিক সত্তা ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন: রাজনৈতিক বিতর্ক

দিল্লি বিস্ফোরণে অমুসলিম মহিলা ডাক্তারের নাম উঠে আসায় এবং কাশ্মীর উপত্যকার রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে এখন সন্ত্রাসবাদের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

  • বিতর্কের মূল: যদি অমুসলিম মহিলা ডাক্তারও জইশ-এর সন্ত্রাসবাদী মডিউলে যুক্ত হন, তবে এটি কি প্রমাণ করে যে সন্ত্রাসবাদের কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম নেই? নাকি এর পিছনে রয়েছে ভারতের সাংবিধানিক সত্তাকে ক্ষুণ্ণ করার সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের ওপর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে নির্যাতন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা?

  • জনবিন্যাসের বিতর্ক: অনেকে এই পরিস্থিতির জন্য কাশ্মীরে বাধ্যতামূলক জনবিন্যাসের পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, বহিরাগত সংস্কৃতি দ্বারা জনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলটি স্থানীয় রাজনীতির মদতে জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী উদ্দেশ্য পোষণ করার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং ভারতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধিও এই অঞ্চলে শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর