ব্যুরো নিউজ, ২৭শে নভেম্বর ২০২৫ : ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার ১৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল ভারত। এই দিনে ফ্রান্স ও ইজরায়েল সহ বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সন্ত্রাস দমনে ভারতের পাশে ফ্রান্স
ভারতে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত থিয়েরি মাথো (Thierry Mathou) ‘X’-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে হামলার শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি সন্ত্রাসবাদের ‘দ্ব্যর্থহীন নিন্দা’ জানান এবং এই অভিশাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দেন।
রাষ্ট্রদূতের বার্তা: “২৬/১১ মুম্বই হামলা: এই ভয়ঙ্কর হামলার ১৭ বছর পূর্তিতে ফ্রান্স নিহতদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। ফ্রান্স সন্ত্রাসবাদের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করছে এবং এই অভিশাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে রয়েছে,” লিখেছেন রাষ্ট্রদূত।
Operation Sindoor : ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভাঙল লস্করের মেরুদণ্ড ,সংসদ ও মুম্বাই হামলার মূল অর্থযোগানদাতা আব্দুল আজিজ নিহত
‘২৬/১১ মানবজাতির ওপর আক্রমণ’: ইজরায়েলের আবেগপূর্ণ বার্তা
অন্যদিকে, ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আযার (Reuven Azar) বুধবার ২৬/১১ হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং ভারতের প্রতি তাঁদের দৃঢ় সমর্থনের কথা তুলে ধরেছেন। রাষ্ট্রদূত আযার একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই ‘যৌথ অভিজ্ঞতা’ই ভারত ও ইজরায়েলের গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে।
আযারের বক্তব্য: তিনি বলেন, “২৬/১১ কেবল মুম্বইয়ের ওপর আক্রমণ ছিল না, এটি ছিল মানবজাতির ওপর আক্রমণ। এই হামলায় ভারতীয় এবং ইজরায়েলি সহ প্রতিটি সম্প্রদায়, প্রতিটি জাতীয়তা ও প্রতিটি বিশ্বাসের মানুষজন আক্রান্ত হয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, ইজরায়েল এই ব্যথা বোঝে।”
সঙ্কটের অংশীদার: রাষ্ট্রদূত আরও যোগ করেন, “আমরা জানি সন্ত্রাসবাদের কাছে নিরপরাধ জীবন হারানোর অর্থ কী। আমরা সাহসিকতা, স্পষ্টতা ও সংকল্প নিয়ে পাল্টা লড়াই করার অর্থও জানি। আমাদের এই যৌথ অভিজ্ঞতাগুলিই আমাদের গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে।”
চার দিনের হামলায় নিহত ১৬৬ জন
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে পাকিস্তান-সমর্থিত লস্কর-ই-তৈবা (LeT) গোষ্ঠীর ১০ জন সন্ত্রাসবাদী সমুদ্রপথে ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে প্রবেশ করে। চার দিন ধরে চলে এই সমন্বিত হামলায় ১৬৬ জন মানুষ নিহত হন এবং ৩০০ জন আহত হন।
সন্ত্রাসীরা সর্বাধিক প্রভাব ফেলার জন্য শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করেছিল। এর মধ্যে ছিল:
তাজ ও ওবেরয় হোটেল
ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস
ইহুদি কেন্দ্র (নারিমান হাউস)
কামা হাসপাতাল
মেট্রো সিনেমা
লিওপোল্ড ক্যাফে
হামলাকারীদের মধ্যে নয়জন লস্কর (LeT) সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছিল এবং একমাত্র জীবিত সন্ত্রাসবাদী মহম্মদ আজমল আমির কাসাবকে সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর তুকারাম ওম্বলে নিজের জীবন দিয়ে ধরেছিলেন। কাসাবকে ২০১০ সালের মে মাসে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং দু’বছর পর পুণের হাই-সিকিউরিটি জেলে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এই হামলার ক্ষতচিহ্ন আজও দক্ষিণ মুম্বইয়ের রাস্তায় ও লিওপোল্ড ক্যাফেতে রয়ে গেছে।



















