ed seize files ipac

ব্যুরো নিউজ, ৭ই জানুয়ারী ২০২৬ : ভোটের মুখে ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভস্থিত আই-প্যাক (I-PAC) দপ্তর এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অভিযানের খবর পেয়েই সরাসরি স্পটে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

হার্ড ডিস্ক ও প্রার্থী তালিকা হাতানোর অভিযোগ

অভিযান চলাকালীন প্রতীক জৈনের বাসভবনে গিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরনোর সময় তাঁর হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল দেখা যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ইডি তদন্তের নামে তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন রাজনৈতিক নথি, হার্ড ডিস্ক এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তৃণমূলের হার্ড ডিস্ক বা ক্যান্ডিডেট লিস্ট সংগ্রহ করা কি ইডি বা অমিত শাহের কাজ? যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ রক্ষা করতে পারেন না, তিনি আমার দলের নথি চুরি করাচ্ছেন।” মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, একদিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) নামে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে এজেন্সিকে দিয়ে দলের কৌশল জানার চেষ্টা চলছে।

IPAC : ‘বহিরাগত’ প্রশান্ত কিশোর নিজেই! দুই রাজ্যে নাম থাকায় নির্বাচন কমিশনের নজরে

নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত না কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?

ইডি সূত্রের খবর, এই অভিযানটি মূলত একটি ‘ভুয়ো সরকারি চাকরি’ চক্রের তদন্তের অংশ হিসেবে চালানো হয়েছে। দেশের ১৫টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চলছে। তবে তৃণমূলের দাবি, আই-প্যাক যেহেতু তাদের নির্বাচনী পরামর্শদাতা এবং আইটি সেল সামলায়, তাই প্রতিহিংসামূলকভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

কড়া প্রতিক্রিয়া শুভেন্দু অধিকারীর

মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন, যা অসাংবিধানিক।

শুভেন্দুর বক্তব্য, “২০২১ সালেও উনি সিবিআই দপ্তরের সামনে ধরনায় বসেছিলেন। একজন প্রশাসনিক প্রধান হয়ে তদন্তে হস্তক্ষেপ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ইডির উচিত ওঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সাংবিধানিক সংস্থাগুলি নিজেদের নিয়মেই কাজ করছে এবং এতে রাজনৈতিক রঙ লাগানো অনুচিত।

Bangladesh : নওগাঁ থেকে যশোর: ওপার বাংলায় অব্যাহত সংখ্যালঘু নির্যাতন, বাড়ছে মৃত্যুমিছিল।

রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে

আই-প্যাকের দপ্তরে হানা এবং মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি ময়দানে নেমে পড়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় সংঘাতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই আইনি পথে হাঁটার কথা ভাবছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ’ হিসেবেই দেখছে। সামনেই নির্বাচন, তার আগে ইডি-সিবিআই তৎপরতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা প্রতিরোধের রণকৌশল বাংলাকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Article Bottom Widget

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর