ব্যুরো নিউজ, ১৮ই নভেম্বর ২০২৫ : গত ১০ই নভেম্বর রেড ফোর্ট সংলগ্ন অঞ্চলে যে মারাত্মক গাড়ি বিস্ফোরণ হয়, তার চালক ডাক্তার উমার উন নবী-র একটি অপ্রকাশিত ভিডিও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। বিস্ফোরণের ঠিক আগে ধারণ করা এই ফুটেজটি এখন মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভিডিওতে উমার উন নবী আত্মঘাতী বোমা হামলাকে একটি “ভুল বোঝা ধারণা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, ইসলামে এই কাজকে বরং “শাহাদাত অভিযান” বা “শহীদ অভিযান” হিসাবে দেখা উচিত।
উমার বলেছেন যে, আত্মঘাতী হামলার বিরুদ্ধে ধর্মীয় যে-সব বিতর্ক আছে, সেগুলি “পরস্পর-বিরোধী”। তিনি জোর দিয়েছেন যে এই ধরনের কাজগুলি “সঙ্গত প্রতিরোধ” হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত।
পুলওয়ামার ২৮ বছর বয়সী এই ডাক্তার কীভাবে এমন উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হলেন এবং তাঁর আদর্শগত প্রভাব কী ছিল, তা বোঝার জন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই ভিডিওটি পরীক্ষা করছে।
‘শ্বেত-পোশাকধারী সন্ত্রাস’ এবং NIA-এর সাফল্য
সন্ত্রাস চক্রের জাল: উমার উন নবী একজন ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও একটি “শ্বেত-পোশাকধারী সন্ত্রাস” (white-collar terror) চক্রের অংশ ছিলেন। এই চক্রের জাল কাশ্মীর, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
বিস্ফোরকের চালক: লালকেল্লার কাছে যে Hyundai i20 গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়েছিল, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সেটি উমারই চালাচ্ছিলেন। এই হামলায় তিনি মোট ১৫ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছেন।
সহযোগী গ্রেফতার: ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) উমার-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাসির বিলাল ওয়ানি-কে গ্রেফতার করেছে। ওয়ানি-র বিরুদ্ধে ড্রোন সংশোধন (modifying drones) এবং রকেট তৈরির চেষ্টা করে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আছে।
অন্য একজন অভিযুক্ত, আমির রশিদ আলী, আগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনিই নিরাপদ আশ্রয় ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছিলেন। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরক-বোঝাই গাড়িটি আলী-র নামেই নিবন্ধিত ছিল।
ফরিদাবাদের ধরপাকড় ও তড়িঘড়ি হামলা
তদন্তে জানা গেছে যে, এই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী প্রথমে ১৫ই আগস্ট, ৬ই ডিসেম্বর, এবং আগামী বছরের ২৬শে জানুয়ারির মতো একাধিক দিনে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তারা প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন লালকেল্লার দিকে বিস্ফোরক-বোঝাই গাড়ি নিয়ে যাওয়ার মতলব করেছিল।
কিন্তু, এই মাসের শুরুর দিকে ফরিদাবাদে পুলিস হানা দিয়ে প্রায় ৩,০০০ কেজি TATP বিস্ফোরক উদ্ধার করে এবং বেশ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই ধরপাকড়ের ফলেই উমার উন নবী বিচলিত হয়ে পড়েন এবং পরিকল্পনা পাল্টে তড়িঘড়ি লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেন।
বিস্ফোরক দুর্ঘটনা: ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকেরই কিছু অংশ জম্মু ও কাশ্মীর-এর নওগাম থানাতে (Nowgam Police Station) পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেগুলির অস্থির প্রকৃতির (unstable nature) কারণে ফরেনসিক পরীক্ষার আগেই সেখানে একটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে একাধিক মানুষ হতাহত হন।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, তদন্তে তুরস্ক যোগসূত্র
বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণে মৃতের সংখ্যা এখন ১৫। LNJP হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই জন আহত ব্যক্তি— লুকমান (৫০) এবং বিনয় পাঠক (৫০)— মারা গেছেন।
পুলওয়ামার কোইল গ্রামের বাসিন্দা উমার উন নবী ছিলেন শান্ত এবং অন্তর্মুখী। তদন্তে আরও জানা গেছে যে উমার এবং অপর এক অভিযুক্ত ডাক্তার মুজাম্মিল তুরস্কে গিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সেখানে তাঁরা হ্যান্ডলারদের দ্বারা চালিত হয়েছিলেন। নভেম্বর ৯ তারিখে উমার নিখোঁজ হন। তার আগেই ফরিদাবাদে চক্রের কিছু অংশ ধরা পড়ে।
তদন্তকারীরা এই সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ পরিধি উদ্ঘাটন করার জন্য কাজ করে চলেছেন।



















