ব্যুরো নিউজ, ১৮ই নভেম্বর ২০২৫ : দিল্লীর লালকেল্লা সংলগ্ন বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ড নিয়ে গতকাল সোমবার নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। পিডিপি (PDP)-র প্রধান মেহবুবা মুফতি এই বিস্ফোরণের দায় সরাসরি কাশ্মীরের অশান্তির সাথে যুক্ত করেছেন, যা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির ব্যর্থতা বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের পরই ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে।
মেহবুবার অভিযোগ: মুফতি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন যে, রাজধানী দিল্লীর এই ঘটনা দেশের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে এবং জম্মু ও কাশ্মীর-এ কেন্দ্রের নীতির ব্যর্থতা প্রমাণ করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন: “আপনারা (কেন্দ্রীয় সরকার) তো সারা বিশ্বকে বলেছিলেন, কাশ্মীরে সব ঠিক আছে, কিন্তু কাশ্মীরের সমস্যা সেই রেড ফোর্টের সামনেই তো প্রতিধ্বনিত হলো!”
দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন: তিনি আরও বলেন, “আপনারা জম্মু ও কাশ্মীরকে সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে আপনাদের নীতি দিল্লীকেই নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে। যদি একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক, একজন ডাক্তার, নিজের শরীরে আরডিএক্স বেঁধে নিজে মারা যায় এবং অন্যদেরও মারে, তাহলে বুঝতে হবে দেশে কোনো নিরাপত্তা নেই।”
বিভাজনের রাজনীতি: মুফতি অভিযোগ করেন যে, বিভাজনের রাজনীতি এখন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে আপনারা ভোট পেতে পারেন, কিন্তু দেশ কোন দিকে যাচ্ছে?” মুফতির মতে, “সেই বিষাক্ত পরিবেশও কোথাও না কোথাও কাশ্মীরের যুবকদের ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী।”
মেহবুবা মুফতির মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ বিজেপির
বিজেপি মেহবুবা মুফতির এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। দলের মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী ‘এক্স’ (X)-এ (পূর্বতন ট্যুইটার) একটি পোস্টে মুফতির বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, মুফতি এই হামলার পিছনে থাকা ব্যক্তিদের পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিজেপি-র বক্তব্য: ভান্ডারী দাবি করেন, “মুফতি যিনি সন্ত্রাসী বুরহান ওয়ানি-কে সমর্থন করতেন, এখন তিনি রেড ফোর্ট বিস্ফোরণের সন্ত্রাসীদের ন্যায্য প্রমাণ করতে চাইছেন। বলছেন— ‘হিন্দু মুসলিম এবং ঘৃণা সন্ত্রাসের জন্য দায়ী’।”
ভান্ডারী আরও বলেন : “কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী দল কেন সন্ত্রাসীদের সমর্থন করার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় না? কারণ পিডিপির অর্থ প্রো টেররিসট পার্টি “
এনআইএ-র হাতে আরও এক ষড়যন্ত্রকারী গ্রেফতার
এই মামলার তদন্তে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) গতকাল সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের আরও একজন বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ব্যক্তির নাম জাসির বিলাল ওয়ানি, যিনি দানিষ নামেও পরিচিত।
অভিযোগ: অনন্তনাগ জেলার কাজিগুণ্ডের বাসিন্দা ওয়ানি-র বিরুদ্ধে আত্মঘাতী বোমারু ডাক্তার উমার উন নবী-র সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সে হামলার আগে ড্রোন সংশোধন (modifying drones) করেছিল এবং রকেট তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লীতে নিয়ে আসা হয়েছে।
অমিত শাহের কড়া বার্তা: “পাতাল থেকেও খুঁজে বের করা হবে”
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল ফরিদাবাদে উত্তর আঞ্চলিক পরিষদের (NZC) ৩২তম বৈঠকে যোগ দিয়ে এই হামলায় জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
কঠোরতম শাস্তির প্রতিশ্রুতি: শাহ বলেছেন, “আমরা দিল্লী বোমা বিস্ফোরণের অপরাধীদের ‘পাতাল’ (netherworld) থেকেও খুঁজে বের করব এবং তাদের এই অপরাধের জন্য কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করব।” তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসবাদকে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলার সম্মিলিত অঙ্গীকার আমাদের রয়েছে।
নতুন ফৌজদারি আইন: এই বৈঠকে শাহ বলেন, নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন বলবৎ হওয়ায় অত্যন্ত ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার (conviction rate) প্রায় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে এবং অপরাধীরা সময়মতো শাস্তি পাচ্ছে।
Delhi Car Blast : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসবাদ! আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি বাতিল ,বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর
আল-ফালা ইউনিভার্সিটির উপর নজরদারি
বিস্ফোরণের পর ফরিদাবাদের আল-ফালা ইউনিভার্সিটি তীব্র নজরদারির আওতায় এসেছে। এই সন্ত্রাস চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠানের একাধিক ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত নথিপত্রের ব্যাপক ফরেনসিক অডিট করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, পিটিআই সূত্র অনুযায়ী, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) সহ অন্যান্য সংস্থাগুলিকে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেনের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।



















