delhi car blast west bengal link

ব্যুরো নিউজ,  ১৮ই নভেম্বর ২০২৫ : দিল্লীর লালকেল্লা সংলগ্ন বোমা বিস্ফোরণের তদন্ত এবার পশ্চিমবঙ্গে পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) এই মামলায় যুক্ত সন্দেহে বর্তমানে কলকাতা জেলে বন্দি এক ব্যক্তিকে জেরা করছে।

  • সাবির আহমেদকে জেরা: সূত্র মারফত জানা গেছে, নদীয়া জেলার পলাশিপাড়ার বাসিন্দা সাবির আহমেদ-কে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বেশ কয়েকবার জেরা করেছে NIA। মাদক আইনে ধৃত সাবিরের ভাই ফয়জল আহমেদ-কেও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) আগেই গ্রেপ্তার করেছিল।

  • মেন্টরশিপ গ্রুপের সদস্য: ফরিদাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির ডাক্তার শাহিন শাহেদ-কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে, তাঁরা বিভিন্ন সোশ্যাল গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের কার্যকলাপ চালাতেন। ডাক্তার শাহিন এই গ্রুপগুলির মেন্টর হিসেবে কাজ করতেন। নদীয়ার সাবির আহমেদ সেই গ্রুপে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় ভারতবিরোধী প্রচারদেশবিরোধী কার্যকলাপে উৎসাহ দিতেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ যোগসূত্র: মুর্শিদাবাদকে করিডর করে বিস্ফোরক পাচার

পাকিস্তান ছাড়াও দিল্লী বিস্ফোরণ কাণ্ডে এবার বাংলাদেশের যোগসূত্র উঠে আসছে। তদন্তে জানা গেছে যে, বাংলাদেশ থেকে বিস্ফোরক ভারতে আনার জন্য পশ্চিমবঙ্গকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

  • বিস্ফোরক আনা হয় মুর্শিদাবাদ দিয়ে: বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মুর্শিদাবাদ দিয়ে ফরিদাবাদে এসেছিল। মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় সেখান দিয়ে এই পাচারকার্য চালানো হয়।

  • ‘ইখতিয়ার’-এর ভূমিকা: তদন্তে ইখতিয়ার নামে এক সন্দেহভাজন পাচারকারীর নাম উঠে এসেছে। এই ইখতিয়ারই বিস্ফোরক ভারতে এনে নিজের ‘সেফ হাউজ’-এ মজুত রেখেছিল এবং পরে তা মূল অভিযুক্ত উমর মুজাম্মলির হাতে তুলে দেয়। ইখতিয়ার বাংলাদেশের এক গোয়েন্দাকে হত্যা করার দায়ে অভিযুক্ত এবং মুর্শিদাবাদে নিজের ‘সেফ হাউজ’ তৈরি করেছিল।

  • লস্কর কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক: সূত্র অনুযায়ী, বিস্ফোরণের আগে ইউনুস প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার সাইফুল্লাহ সাইফ-এর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই বৈঠক থেকেই দিল্লী হামলার ছক কষা হয়ে থাকতে পারে।

Delhi Car Blast : লালকেল্লা বিস্ফোরণ তদন্তে উঠে এলো পাক , বাংলাদেশি এবং তুরস্ক যোগ ! জানুন বিস্তারিত ।

জেহাদি জোটের ইঙ্গিত ও অন্যান্য গ্রেফতার

দিল্লী বিস্ফোরণের সাথে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর যোগসূত্র প্রকাশ পেয়েছে। এখন বাংলাদেশ যোগসূত্র আসায়, প্রশ্ন উঠেছে যে ভারতবিরোধী মনোভাব নিয়ে দুই দেশের জঙ্গিগোষ্ঠী জোট বেঁধেছে কি না। তদন্তকারীরা এই বিষয়ে ইঙ্গিত পেয়েছেন।

  • মূল অভিযুক্তদের জইশ যোগ: লখনউতে ধৃত শাহিন, ফরিদাবাদের মুজাম্মিল কিংবা শ্রীনগরের আদিল — সবার সঙ্গেই জইশ-ই-মহম্মদের নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে।

  • NIA-এর হাতে আরও দুই সহযোগী:

    • NIA গতকাল রবিবার আমির রশিদ আলী নামে এক কাশ্মীরি বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি আলীর নামেই রেজিস্টার করা ছিল।

    • সোমবার NIA মূল অভিযুক্ত ডাক্তার উমার উন নবীর আর এক সহযোগী জাসির বিলাল ওয়ানি ওরফে দানিষ-কে গ্রেপ্তার করেছে। দানিষ ড্রোন সংশোধন এবং রকেট তৈরির চেষ্টা করে কারিগরি সহায়তা দিয়েছিল।

Delhi Car Blast : রেড ফোর্ট বিস্ফোরণে এইবার অমুসলিম মহিলা ডাক্তার আটক , ‘ সেকুলার ‘ সন্ত্রাসের প্রকাশ !

রাজ্যের রেল স্টেশনগুলিতে কড়া নিরাপত্তা

দিল্লী বিস্ফোরণের পর শিয়ালদহহাওড়া স্টেশন চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে দূরবর্তী ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি, ট্যাক্সি এবং অ্যাপ ক্যাবগুলির প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। RPF ক্রমাগত পার্কিং এলাকার ওপর নজর রাখছে এবং প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি করে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর