congress to contest alone in WB

ব্যুরো নিউজ, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : গত এক দশকের প্রথা ভেঙে শেষপর্যন্ত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই হাত চিহ্নে প্রার্থী দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পরপরই সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, কংগ্রেসের অবস্থান এখনো তাঁদের কাছে অস্পষ্ট হলেও, তাঁরা তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তিকে নিয়ে একটি ‘বৃহত্তর মোর্চা’ গড়ে তুলতে আগ্রহী।

কেন জোট বিচ্ছেদ?

২০১৬ এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েও তেমন আশাপ্রদ ফল পায়নি কংগ্রেস। বিশেষ করে ২০২১-এ ৯২টি আসনে লড়েও একটিতেও জয়ী হতে পারেনি তারা। দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, বামেদের সঙ্গে জোটের ফলে মুর্শিদাবাদ, মালদহের মতো নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতেও কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের মতে, নিচুতলার কর্মীরা এবং যুব নেতৃত্ব এবার এককভাবে লড়তেই বেশি উৎসাহী। তবে অধীর রঞ্জন চৌধুরী এখনো জোটের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে সওয়াল করছেন বলে সূত্রের খবর।


Prashant Kishore, Supreme Court : লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম বিহারের অনুদান: পিকের দ্বিমুখী নীতি কি আত্মঘাতী হলো? সুপ্রিম কোর্টের বড় ধাক্কা প্রশান্ত কিশোরের !

বামেদের কৌশল: ব্যক্তি নয়, লক্ষ্য হোক বিজেপি-তৃণমূলের পতন

কংগ্রেস যখন একা লড়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে, তখন মহম্মদ সেলিম এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান যে, বামেরা এখনো আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। সম্প্রতি তৃণমূলের নিলম্বিত (suspended) বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের তৈরি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সাথে তাঁর বৈঠক নিয়ে জল্পনা তৈরি হলে সেলিম স্পষ্ট করেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পরিকল্পনা করি না। আমাদের লক্ষ্য তৃণমূলের দুর্নীতি এবং বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির অবসান ঘটানো।”

তিনি আরও জানান যে, কংগ্রেস যদি তৃণমূলের কাছে আসন ভিক্ষা করতে যায়, তবে বামেদের পক্ষে সেই দলের সঙ্গে সমঝোতা করা সম্ভব নয়। বামেদের মূল লক্ষ্য এখন আইএসএফ এবং অন্যান্য সমমনস্ক ছোট দলগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী তৃতীয় বিকল্প তৈরি করা।


কেন্দ্রের রাজ্যকে ধিক্কার : দেশের প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান

রাজ্য রাজনীতির এই জটিল সমীকরণের মাঝেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। রাজ্যসভায় তিনি বলেন, “বাংলায় এক নিষ্ঠুর সরকার চলছে, যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে গিয়ে দেশের যুবকদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, বাংলার তৃণমূল সরকার বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং আদিবাসীদের জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে জানিয়েছেন যে, বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বাংলাকে হেনস্তা করা হচ্ছে।

West Bengal Budget 2026 : ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটির বাজেট: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বেকার ভাতা— শিল্পায়নের পরিবর্তে দান খয়রাতী দ্বারায় হবে নির্বাচনী বৈতরণী পার ?


ডিএ (DA) নিয়ে সুপ্রিম স্বস্তি: বামেদের সমর্থন

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ২৫ শতাংশ টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, “ডিএ কোনো দয়া নয়, এটি কর্মচারীদের সংবিধিবদ্ধ অধিকার। রাজ্য সরকারের আর্থিক সংকটের যে অজুহাত বারবার দেওয়া হচ্ছে, আদালতের নির্দেশে তা ধোপে টেকেনি।”

উপসংহার: রাজনৈতিক লড়াই না কি জনসেবা?

যেখানে বিজেপি বাংলার দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের পতনের ডাক দিচ্ছে, সেখানে বামেদের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতায় আসা নাকি সত্যিই কোনো গুণগত পরিবর্তন আনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম কংগ্রেস একা লড়ার পথে হাঁটছে। এই চারমুখী লড়াইয়ে জনগণ কি বেছে নেবে ? —তৃণমূলের চিরাচরিত উন্নয়ন  , বিজেপির আনা পরিবর্তন , নাকি বাম-কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ? —তা সময়ই বলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর