ব্যুরো নিউজ, ২৭শে জানুয়ারী ২০২৬ : সালে জেপি দত্তর ‘বর্ডার’ ছবিটি ভারতীয় সিনেমা জগতে এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ ২৯ বছর পর, সেই একই আবেগ আর দেশপ্রেমের জোয়ার নিয়ে ফিরল ‘বর্ডার ২’। গত শুক্রবার, ২৩শে জানুয়ারি ২০২৬-এ মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি বক্স অফিসে যে তণ্ডব শুরু করেছে, তা সাম্প্রতিক কালের সমস্ত রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। মাত্র চার দিনেই ছবিটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৮০ কোটি টাকায়।
প্রজাতন্ত্র দিবসে উপচে পড়া ভিড় ও সংগ্রহ
সোমবার, ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের জাতীয় ছুটি ছবিটির সাফল্যের পালে অতিরিক্ত হাওয়া দিয়েছে। সপ্তাহের চতুর্থ দিনে ছবিটির আয় হয়েছে ৫৯ কোটি টাকা, যা মুক্তির দিনের আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। হিন্দি বলয়ে এই দিন প্রেক্ষাগৃহের গড় উপস্থিতি ছিল ৬৪.২৭ শতাংশ। শুক্রবার ৩০ কোটি দিয়ে খাতা খোলার পর, শনিবার ৩৬.৫ কোটি এবং রবিবার ৫৪.৫ কোটি টাকা আয় করে ছবিটি ইতিমধ্যেই ব্লকবাস্টারের পথে পা বাড়িয়েছে।
অতীতের স্মৃতি ও বর্তমানের সাফল্য
১৯৯৭ সালের মূল ‘বর্ডার’ ছবিটি মাত্র ১০ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি হয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে অল-টাইম ব্লকবাস্টার তকমা পেয়েছিল। বর্তমানে সেই ছবির সিক্যুয়েল ‘বর্ডার ২’ অগ্রিম বুকিং থেকেই সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়েছিল। প্রায় ৪৮,০০০ টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়েছিল এবং বুকমাইশো ও পিভিআর-আইনক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে দর্শকদের টিকিটের চাহিদা ছিল তুঙ্গে।
বাস্তব জীবনের বীরদের চরিত্রে একঝাঁক তারকা
অনুরাগ সিং পরিচালিত এই ছবিতে ১৯৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছবির বিশেষ আকর্ষণ হলো বাস্তব জীবনের বীর যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণায় তৈরি চরিত্রগুলো:
সানি দেওল: লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফতেহ সিং কালের (শিখ রেজিমেন্ট)।
বরুণ ধাওয়ান: পরমবীর চক্রজয়ী মেজর হুঁশিয়ার সিং দাহিয়া।
দিলজিৎ দোসাঞ্জ: আইএএফ কিংবদন্তি এবং মরণোত্তর পরমবীর চক্রজয়ী নির্মল জিৎ সিং সেখোঁ।
আহান শেট্টি: আইএনএস খুকরি-র নৌসেনা আধিকারিক এমএস রাওয়াত।
এছাড়াও সোনম বাজওয়া, মোনা সিং এবং মেধা রানা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন সুমিত অরোরা এবং জেপি দত্ত স্বয়ং।
উদযাপনে মাতলেন বরুণ ও আহান
ছবির এই বিপুল সাফল্য এবং প্রজাতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে রাজপথে নেমে এসেছিলেন অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান। গাড়ির সানরুফ থেকে তেরঙা পতাকা উত্তোলন করে তিনি অনুরাগীদের অভিনন্দন গ্রহণ করেন এবং তাঁদের ধন্যবাদ জানান। এরপর তাঁকে তাঁর সহ-অভিনেতা আহান শেট্টির সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ক্রিকেট ম্যাচেও অংশ নিতে দেখা যায়।
কেন এই ছবি নিয়ে উন্মাদনা এত বেশি?
সিনেমাপ্রেমীদের মতে, সানি দেওলের সেই চিরচেনা হুঙ্কার, বরুণ ধাওয়ানের সিরিয়াস অভিনয় এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জের স্ক্রিন প্রেজেন্স—এই ত্রয়ীর রসায়ন দর্শকদের হলমুখী করেছে। আধুনিক স্পেশাল এফেক্টস এবং নিখুঁত যুদ্ধের দৃশ্য ১৯৭১-এর সেই লড়াইকে জীবন্ত করে তুলেছে বড় পর্দায়।
বক্স অফিসের বর্তমান ধারা বজায় থাকলে, খুব শীঘ্রই এই ছবি ৩০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করবে বলে মনে করছেন ট্রেড অ্যানালিস্টরা।
















