ব্যুরো নিউজ, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১০ থেকে ২১৩টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
পরাজিত জামায়াত ও অন্যান্য দল
নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্ররা ৭৩ থেকে ৭৬টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয়লাভ করেছে এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থীরা পেয়েছেন ৬ থেকে ৮টি আসন। উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, কারণ দলটি আগেই বিলুপ্ত ঘোষিত হয়েছিল।
Bangladesh : বাংলাদেশে নির্বাচনী সহিংসতার বলি হিন্দু সম্প্রদায়: কুপিয়ে ও হাত-পা বেঁধে হত্যার শিকার দুই হিন্দু বাঙালি ব্যবসায়ী
সারজিস আলমের পরাজয় ও আলোচনার কেন্দ্রে গয়েশ্বর রায়
এই নির্বাচনে অন্যতম চমক ছিল ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ এবং ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য আলোচিত সারজিস আলমের পরাজয়। পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ নওশাদ জামিরের কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির হিন্দু প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহিনুর ইসলামকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: ‘ডার্ক প্রিন্স’ থেকে প্রধানমন্ত্রী
এক সময় মার্কিন কূটনৈতিক তারে ‘ডার্ক প্রিন্স’ হিসেবে অভিহিত হওয়া তারেক রহমান এখন দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। ২০০৫-২০১১ সালের দিকে আন্তর্জাতিক মহলে তাকে নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা থাকলেও, ২০২৪-এর ছাত্র অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে দেশের মানুষ তার নেতৃত্বেই আস্থা প্রকাশ করেছে। তারেক রহমান নিজে ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬—উভয় আসন থেকেই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
Bangladesh Khaleda Zia : খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারত: ঢাকায় তারেক রহমানের হাতে মোদীর শোকবার্তা পৌঁছে দিলেন জয়শঙ্কর
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট
সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি এই ভোটগ্রহণ ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবিত ‘৮৪-দফা জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর ওপর একটি গণভোট। এই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ সীমাবদ্ধ করা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক বার্তা
বিএনপির এই বিজয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও অভিনন্দন বার্তা পাঠানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং বিশেষ করে ভারত ও চীনের সাথে সম্পর্কের নতুন রসায়ন তৈরি হবে।


















