Baloch leader informs EAM India of China

ব্যুরো নিউজ, ৬ই জানুয়ারী ২০২৬ : বালোচিস্তান অঞ্চলে চিনের সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ক্রমবর্ধমান পাক-চীন আঁতাত নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বালোচ নেতা ও মানবাধিকার কর্মী মীর ইয়ার বালোচ। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে চিনা সেনা মোতায়েন হতে পারে, যা ভারত ও বালোচ উভয় পক্ষের জন্যই চরম বিপদ ডেকে আনবে।

চিনা সেনা মোতায়েনের গুরুতর সতর্কতা

নতুন বছরের শুরুতে প্রকাশিত এই চিঠিতে মীর ইয়ার বালোচ সতর্ক করেছেন যে, চিন ও পাকিস্তান বর্তমানে ‘চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ (CPEC)-এর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যদি বালোচ প্রতিরোধ বাহিনীকে শক্তিশালী করা না হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবহেলা চলতেই থাকে, তবে চিন এই অঞ্চলে সরাসরি সেনা নামাতে পারে। তার মতে, ৬০ মিলিয়ন বালোচ জনগণের ইচ্ছা ছাড়া বালোচিস্তানের মাটিতে “চিনা বুট”-এর উপস্থিতি ভারত ও বালোচিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য এক অকল্পনীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

Iran : এইবার প্রবল হল ইরানে পালা বদলের সম্ভাবনা : তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল ইরান , ধন্যবাদ জানালেন নির্বাসিত যুবরাজ

জয়শঙ্করকে খোলা চিঠি ও ভারতের প্রতি আহ্বান

মীর ইয়ার বালোচ ভারত ও বালোচিস্তানের মধ্যে “বাস্তবসম্মত ও পারস্পরিক সহযোগিতার” আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত ও বালোচিস্তান আজ একই ধরনের হুমকির সম্মুখীন। চিঠিতে তিনি ভারতের মোদী সরকারের “অপারেশন সিন্দুর”-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, পহেলগাম জঙ্গি হামলার (যাতে ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন) প্রতিক্রিয়ায় ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ও পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামো ধ্বংস করতে এই অভিযান চালিয়েছিল। বালোচ নেতা এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

স্বাধীন বালোচিস্তান ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৫ সালের মে মাসে বালোচ জাতীয়তাবাদী নেতারা পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মীর ইয়ার বালোচ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহে তারা “২০২৬ বালোচিস্তান গ্লোবাল ডিপ্লোম্যাটিক উইক” পালন করবেন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বালোচিস্তান সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে সম্ভাব্য শাসনবদল এবং ওই অঞ্চলের অশান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চিন দ্রুত বালোচিস্তানে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চাইছে। বিশেষ করে গোয়াদর বন্দর এবং ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে চিন মরিয়া হয়ে উঠেছে।

Iran : ইরানে খোমেনি শাসনের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিক্ষোভ: বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে মার্কিন হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান

চিন ও পাকিস্তান সিপেক (CPEC)-কে একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হিসেবে দাবি করলেও ভারত শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। ভারতের বক্তব্য, এই করিডোরটি পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের ওপর দিয়ে গিয়েছে, যা ভারতের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। সম্প্রতি রাজ্যসভায় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, অবৈধভাবে দখলকৃত এলাকায় এই ধরণের যেকোনো কর্মকাণ্ড অগ্রহণযোগ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর