India respond to Pak criticism of Dhwajarohan

ব্যুরো নিউজ,  ২৮শে নভেম্বর ২০২৫ : অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারা পবিত্র পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। গত ২৫ নভেম্বর, মন্দিরটিকে “বাবরি মসজিদের স্থানে নির্মিত” বলে উল্লেখ করে, পাকিস্তান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকারের জন্য একটি ‘উদ্বেগজনক সংকেত’ বলে অভিহিত করেছে। এর কড়া জবাব দিয়ে ভারত পাকিস্তানকে তাদের “ভয়াবহ মানবাধিকার রেকর্ড” এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের দিকে নজর দিতে পরামর্শ দিয়েছে।

পাকিস্তানের বিবৃতিতে ‘গভীর উদ্বেগ’

পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিবৃতিতে অযোধ্যার ঘটনাকে “গভীর উদ্বেগের” বিষয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, ১৯৪২ সালের ৬ ডিসেম্বর ‘ফ্যাসিবাদী ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত চরমপন্থী জনতা’ দ্বারা ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের আইনি প্রক্রিয়া এবং যারা মসজিদ ধ্বংসের জন্য দায়ী ছিল, তাদের “পরবর্তীকালে খালাস” দেওয়া প্রমাণ করে যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি ভারত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বৈষম্যমূলক। এটিকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের প্রভাবে মুসলিম সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য নষ্ট করার এক সুচিন্তিত প্রচেষ্টা’ বলেও তারা অভিযোগ করেছে।

Ram Mandir Dhwaja : ঐতিহাসিক মুহূর্ত: রামরাজ্যের ধর্ম ধ্বজ উত্তোলন

আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান

পাকিস্তান এই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশন অনুযায়ী মুসলিম ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব সংস্থাগুলির একটি “গঠনমূলক ভূমিকা” পালন করা উচিত। এছাড়াও, পাকিস্তান ভারত সরকারকে তার সীমান্তের মধ্যে সমস্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের দায়িত্ব পালন করারও অনুরোধ জানিয়েছে।

ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া: ‘ভণ্ডামি’ বলে কটাক্ষ

পাকিস্তানের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে ভারত এটিকে “তিরস্কারের যোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের মন্তব্যকে “ভণ্ডামিপূর্ণ উপদেশ” বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “বিদ্বেষ, দমন-পীড়ন এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি পদ্ধতিগত দুর্ব্যবহারের দীর্ঘদিনের কলঙ্কিত রেকর্ড রয়েছে পাকিস্তানের। অন্য কাউকে নীতি শেখানোর নৈতিক অধিকার তাদের নেই।” জয়সওয়াল আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, পাকিস্তান যেন “ভণ্ডামিপূর্ণ উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের দিকে তাকায় এবং তাদের নিজস্ব ভয়াবহ মানবাধিকার রেকর্ডের দিকে মনোযোগ দেয়।”

Ram Mandir Dhwaja : রাম সীতা বিবাহ পঞ্চমী তিথিতে অযোধ্যা রাম মন্দিরের শিখরে রামরাজ্যের গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মোহন ভাগবত।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়

প্রসঙ্গত, অযোধ্যার এই স্থানটিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ভগবান রামের জন্মস্থান হিসেবে পবিত্র মনে করেন। ইসলামি আক্রমণের সময় এই স্থানে থাকা প্রাচীন মন্দির ভেঙে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল বলে হিন্দু পক্ষ দাবি করে আসছে। রিপাবলিক অফ ইন্ডিয়ার সুপ্রিম কোর্ট এএসআই (Archaeological Survey of India)-এর প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান এবং লোককথার ভিত্তিতেই রায় দিয়েছে, যা মন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্ত করেছে।

এই বিতর্কিত স্থানটির উপর ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং সেখানে রাম মন্দিরের নির্মাণ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, যা নিয়ে পাকিস্তানের মন্তব্যকে নয়াদিল্লি সম্পূর্ণভাবে অনভিপ্রেত বলে মনে করছে।

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর