ব্যুরো নিউজ ৬ জুন : আসানসোলের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রামকৃষ্ণ মিশনের নবম শ্রেণির এক ছাত্রের আত্মহত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে, যা সমগ্র শহরজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিবারের অভিযোগ, যৌন হেনস্থা এবং সেই ঘটনার ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার জেরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিল ১৫ বছর বয়সী ওই নাবালক, যার ফলে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ঘটনাটি আসানসোল উত্তর থানা এলাকার। পুলিশে অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত:
জানা গেছে, গত ২৯ মে নিজের বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের নবম শ্রেণির ছাত্র সুদীপ মাঝি (১৫)। প্রথমদিকে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারছিলেন না কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। তবে পরবর্তীতে মৃত ছাত্রের বন্ধুদের সাথে কথা বলে এবং তার মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখার পর আসল ঘটনা সামনে আসে।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত: ছাড়াল জাপানকে

যৌন হেনস্থা ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ:
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে আসানসোল কসাইমহল্লার বাসিন্দা ইমরান শেখ নামে এক যুবক সুদীপকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। গাড়িতে মাদক খাইয়ে সুদীপকে যৌন হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত যুবক সেই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে তুলে রাখে। এরপর থেকে সেই ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সুদীপকে টাকার জন্য ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে। এই ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল এবং মানসিক চাপই সুদীপের অবসাদের কারণ বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। সুদীপের দিদি এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বলেন, “টিউশনে এক বন্ধুর মাধ্যমে অভিযুক্ত যুবকের সাথে ভাইয়ের বন্ধুত্ব হয়েছিল। তারপর একদিন ভাইকে মাদক খাইয়ে যৌন হেনস্থা করে তার আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে।”

পুলিশি তদন্ত ও জনদাবি:
এই ঘটনায় শোকার্ত পরিবার আসানসোল উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ছাত্রের পরিজনরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

আলিপুরদুয়ারের জনসভায় মোদীর বার্তা : ‘নির্মম সরকার’কে উপড়ে ফেলে ‘অপারেশন পশ্চিমবঙ্গ’র ডাক!

সামাজিক উদ্বেগ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন:
এই ঘটনা সমাজের বিভিন্ন স্তরে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং তারা কিভাবে সাইবার ব্ল্যাকমেলিংয়ের মতো অপরাধের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত একজন ছাত্রের এমন পরিণতি বাবা-মা এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে যেখানে তথ্য এবং ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেখানে এ ধরনের ব্ল্যাকমেলিংয়ের ঘটনা বেড়ে চলেছে, যা তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, শিশুদের এবং কিশোরদের অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপদ রাখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ এবং সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

আইনের প্রয়োগ এবং প্রতিকার:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর এখন চাপ বেড়েছে এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার। একই সাথে, এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক সহায়তা প্রদানের জন্য সামাজিক এবং আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সচেতন মহল।

Article Bottom Widget

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর