ব্যুরো নিউজ ৬ জুন : বোলপুর থানার আইসিকে কদর্য ভাষায় আক্রমণের অভিযোগে অবশেষে বোলপুর SDPO অফিসে হাজিরা দিলেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এর আগে দু’বার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। বৃহস্পতিবার প্রায় সাতদিন পর SDPO অফিসে এসেও অনুব্রত নিজের স্বভাবসিদ্ধ মেজাজে ছিলেন।
আইসিকে হুমকির অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপ
বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে ফোনে কুকথা বলার অভিযোগ উঠেছে অনুব্রতের বিরুদ্ধে। সেই কথোপকথনের একটি রেকর্ডিং ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। যদিও ওই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। এই ঘটনার জেরে অনুব্রতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪টি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত: ছাড়াল জাপানকে
তৃণমূলের ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ, বিরোধীদের কড়া প্রতিক্রিয়া
বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর তৃণমূলের তরফে অনুব্রতকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এরপরই অনুব্রত একটি ক্ষমাপত্র দেন, যেখানে তিনি লেখেন, “আমার ওই কথাগুলো বলা উচিত হয়নি। আমি দুঃখিত।” তবে তাঁর এই ক্ষমাপ্রার্থনাতেও বিতর্ক থামেনি। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী উভয়েই অনুব্রতকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “কান ধরে অনুব্রত মণ্ডলকে জেলে ঢোকাতে হবে।”
অনুব্রতের ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব
SDPO অফিসে হাজিরা দিয়েও অনুব্রত নিজের ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব বজায় রেখেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সটান বলেন, “দু’দিন যাক। আগে চালচলন দেখি, তারপর বলব।” ফোন করে কী বলা হয়েছিল, কেন বলা হয়েছিল—এসব বিষয়ে তিনি যেন কোনো গুরুত্বই দিচ্ছেন না। তাঁর হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, মামলা-মোকদ্দমা তাঁর কাছে খুব একটা চিন্তার বিষয় নয়। অতীতেও তাঁকে পুলিশকে হুমকি দিতে দেখা গেছে এবং গরু পাচার মামলায় জেল খেটেছেন। কিন্তু এসব কিছুর মধ্যেও তিনি নিজস্ব ছন্দে আছেন।
বিতর্কের হট স্পট অনুব্রত
পুলিশকে হুমকি দেওয়া ছাড়াও অনুব্রতের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা এবং সরকারি কর্তাকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তাঁর চালচলন দেখে মনে হচ্ছে, এসব কিছুর মধ্যেও তাঁর লাঞ্চ মিস হবে না, ঘুম হবে সময়মতো, আর হালকা ঠাট্টায় পরিস্থিতি সামলে নেওয়া যাবে। রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলকে ‘কনট্রোভার্সির হট স্পট’ হিসেবেই দেখা হয় এবং অনুব্রত নিজেও জানেন কীভাবে সেই বিতর্ক সামলাতে হয়। তিনি যেন বলতে চাইছেন, “দু’দিন যাক, আগে চালচলন দেখি!” এই মনোভাব থেকেই বোঝা যায়, অনুব্রত মণ্ডল নিজের মতোই আছেন এবং কেস, কটাক্ষ, কোর্ট—সবকিছুই তাঁর কাছে তাঁর স্বাভাবিক ‘ডোন্ট কেয়ার’ মুডের অংশ।


















