ডাঃ শান্তনু গাঙ্গুলি , সহযোগী প্রভাষক, মালয়েশিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (MMA) , ২০শে নভেম্বর ২০২৫ : অম্লতা এবং গ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখিতে হইলে, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর মনযোগ দিতে হইবে। মশলাদার বা ভাজা খাইবার মতো ট্রিগার খাদ্য এড়াইয়া চলুন এবং অল্প পরিমাণে অধিক ঘন ঘন খাইবার অভ্যাস করুন। প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসাবে আদা, অ্যালো ভেরার রস বা ঘোল (বাটার মিল্ক) ব্যবহার করিবার কথা বিবেচনা করুন, অথবা আপতকালীন প্রতিকার হিসাবে, ঔষধের দোকানে সুলভ (over the counter) অ্যান্টাসিড ব্যবহার করুন।
১. খাদ্যতালিকাঘটিত পরিবর্তন
- ট্রিগার খাদ্য এড়াইয়া চলুন:আপনার শারীরিক লক্ষণগুলিকে খারাপ করে এমন খাদ্যগুলিকে সনাক্ত করুন ও সীমিত করুন। সাধারণ ট্রিগারগুলির মধ্যে রহিয়াছে মশলাদার, ভাজা, চর্বিযুক্ত এবং অম্লীয় (acidic) খাদ্য। সেই সাথে ক্যাফেইন এবং সুরা (কফি এবং মাদক) পরিহার্য।
- ছোট ছোট করিয়া ঘন ঘন খাদ্য গ্রহণ:অতিরিক্ত খাইবার অভ্যাস এড়াইয়া চলুন, যাহা পাকস্থলীর অম্ল বাড়াইয়া গ্যাসের কারণ হইতে পারে।
- জলীয়ভাব বজায় রাখুন (Hydrated থাকুন):সারাদিন প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন, কারণ উহা হজমের সাহায্য করে এবং পাকস্থলীর অম্ল পাতলা করিতে সাহায্য করে।
- ‘জি.ই.আর.ডি. খাদ্যতালিকা’ (GERD diet) বিবেচনা করুন:অম্ল হ্রাসকারী খাইবার উপর দৃষ্টি-নিবদ্ধ করা খাদ্য বুকজ্বালা এবং অম্ল প্রত্যবর্তন (acid reflux) নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
SCIATICA : সায়াটিকা: কারণ, লক্ষণ ও নিরাময় পদ্ধতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ।
২. জীবনযাত্রার পরিবর্তন
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন: অতিরিক্ত ওজন উদরের উপর চাপ সৃষ্টি করিতে পারে, যাহা অম্ল প্রত্যবর্তনের ঝুঁকি বাড়ায়।
খাইবার পর শুইয়া পড়িবেন না: অম্ল প্রত্যবর্তন প্রতিরোধ করিবার জন্য খাইবার পর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়া তবেই শুইয়া পড়ুন।
ঘুমাইবার সময় মস্তক উঁচু করুন: যদি রাত্রিকালে অম্লতা অনুভব করেন, তাহা হইলে মস্তক ও বালিশ কয়েক ইঞ্চি উঁচু করিয়া শুইলে উপকার পাওয়া যাইতে পারে।
ধূমপান এড়াইয়া চলুন: ধূমপান অম্ল প্রত্যবর্তনকে আরও তীব্র করে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন: মানসিক চাপ হজমের সমস্যা আরও বাড়াইয়া তুলিতে পারে। তাই ইহা সমাধান ও পরিচালনা করিবার স্বাস্থ্যকর উপায় খুঁজিয়া বাহির করুন।
৩. প্রাকৃতিক প্রতিকার
| প্রতিকার | কার্যকারিতা |
| আদা | আদা হজমের সমস্যার জন্য একটি সুপরিচিত ঘরোয়া প্রতিকার এবং অম্লতা ও গ্যাসের সমস্যা দূর করিতে সাহায্য করিতে পারে। |
| অ্যালো ভেরার রস | অ্যালো ভেরার রস উদরের আবরণকে প্রশমিত করিতে এবং অম্লতা কমাইতে সাহায্য করিতে পারে। |
| ঘোল (Butter Milk) | ঘোল পাকস্থলীর অম্লকে নিষ্ক্রিয় করিতে পারে এবং উহা প্রোবায়োটিক (probiotic)-এর একটি ভালো উৎস, যাহা হজমশক্তির উন্নয়ন ঘটাইতে পারে। |
| ক্যামোমাইল চা | ক্যামোমাইল চায়ের প্রশান্তি দায়ক প্রভাব রহিয়াছে এবং ইহা বদহজম ও গ্যাসের সমস্যায় সাহায্য করিতে পারে। |
| বেকিং সোডা | পাতলা বেকিং সোডা (সোডিয়াম বাইকার্বনেট) পাকস্থলীর অম্ল নিষ্ক্রিয় করিতে সাহায্য করিতে পারে। |
| আপেল সিডার ভিনিগার | ইহা হজমে সাহায্য করিতে পারে এবং কিছু গ্যাসের লক্ষণ হইতে মুক্তি দিতে পারে। |
| মৌরি বীজ | মৌরি বীজ পেট ফাঁপা এবং গ্যাসের কষ্ট লাঘব করিতে পারে। |
৪. ঔষধের দোকানে সুলভ ঔষধ (Over The Counter)
প্রাথমিক অবস্থায় বা আপতকালীন প্রয়োজনে এই ঔষধগুলি প্রয়োগ করা যাইতে পারে।
অ্যান্টাসিড (Antacid): রানটিডিন (Ranitidine), রোলএইডস (Rolaids) বা টামস (Tums)-এর মতো অ্যান্টাসিডগুলি পাকস্থলীর অম্লকে নিষ্ক্রিয় করিয়া দ্রুত অম্বল-জ্বালা উপশম করিতে পারে।
এইচটু ব্লকার (H2 Blocker): আরও তীব্র অম্ল প্রত্যবর্তনের জন্য, ফ্যামোটিডিন (Famotidine – Pepcid) বা সিমেটিডিন (Cimetidine – Tagamet)-এর মতো H2 ব্লকার অম্ল উৎপাদন কমাইতে পারে।
সিমেথিকোন (Simethicone): সিমেথিকোন গ্যাসের বুদবুদ ভাঙ্গিতে এবং ফোলাভাব দূর করিতে সাহায্য করিতে পারে।
৫. কখন চিকিৎসা পরামর্শ লইবেন
যদি আপনার লক্ষণগুলি তীব্র বা স্থায়ী হয়, বা ঘুরিয়া ঘুরিয়া ফিরিয়া আসে অথবা আপনার শ্বাস লইতে সমস্যা হয় বা বুকে ব্যথা হয়; তাহা হইলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যদি সপ্তাহে দুইবারের বেশি বুকজ্বালা হয়, তাহা হইলে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট (Gastroenterologist)-এর সাথে পরামর্শ করিয়া সুচিকিৎসা গ্রহণ করুন।



















