wbeci sci

ব্যুরো নিউজ, ১০ই মার্চ ২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার আওতায় বাদ পড়া ভোটারদের নাম যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আদালত নিযুক্ত এই অফিসাররা দিনরাত এক করে কাজ করছেন, তাঁদের সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।


“অফিসারদের অসম্মান সইব না”— কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আবেদনকারীদের তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেন, “বিচারবিভাগীয় অফিসারদের প্রশ্ন করার দুঃসাহস দেখাবেন না! আপনারা তাঁদের থেকে আর কত আত্মত্যাগ চান? তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বাদ পড়া ভোটারদের মামলা শোনার জন্য অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন। আমি এটা কোনোভাবেই সহ্য করব না!” মূলত অফিসারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত এই কড়া অবস্থান নেয়।

WB ECI SIR : ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশ: আজ বিকেল ৫টার মধ্যে নথি জমার চরম সময়সীমা।


নতুন অ্যাপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ

ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে:

  • এই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে থাকবেন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং প্রাক্তন বিচারপতিরা।

  • ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বিচারবিভাগীয় অফিসারদের রায়ে যাঁরা সন্তুষ্ট নন, তাঁরা এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন।

  • কোনো প্রশাসনিক বা সরকারি ফোরামে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করা যাবে না।

  • কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই ট্রাইব্যুনালের সদস্য সংখ্যা এবং তাঁদের সাম্মানিক নির্ধারণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সমস্ত খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন।


১০ লাখ অভিযোগের পাহাড় ও পরিকাঠামোর অভাব

আদালতে পেশ করা তথ্যে জানা গেছে, বিচারবিভাগীয় অফিসাররা এ পর্যন্ত প্রায় ১০.১৬ লাখ আপত্তি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা মাথায় রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ওই অফিসারদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

WB ECI SIR : ফেব্রুয়ারিতেই চূড়ান্ত তালিকা? রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা উসকে দিলেন অভিষেক


উভয়পক্ষকে ভর্ৎসনা

মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি দুই পক্ষের (রাজ্য ও কমিশন) উদ্দেশ্যই সংশয় প্রকাশ করেন। সিনিয়র অ্যাডভোকেট মেনকা গুরুস্বামী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকলেও, অফিসারদের নিয়ে নতুন আবেদনটি ঠিক কে দাখিল করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির চিহ্নিত করা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে, ১০ লাখের বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তির পর যে সম্পূরক তালিকা প্রকাশিত হবে, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে উভয় পক্ষকেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Article Bottom Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর