ব্যুরো নিউজ, ৯ই মার্চ ২০২৬ : রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়ল ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে ভারত টানা দ্বিতীয়বার এবং মোট তৃতীয়বারের মতো আইসিসি মেনস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করল। বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার (Defending Champion) অনন্য কৃতিত্ব এখন টিম ইন্ডিয়ার দখলে।
রাষ্ট্রপতি ও রাজনৈতিক মহলের অভিনন্দন
ভারতের এই মহাসাফল্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে অকাল দীপাবলি।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় লিখেছেন, “ভারতের এই জয় দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। এটি ভারতীয় ক্রিকেটের শক্তি ও তরুণ প্রতিভার পরিচয়।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সঞ্জু স্যামসন ও জসপ্রীত বুমরাহ-এর বিশেষ প্রশংসা করে দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এই জয়কে তাঁর ৭০তম জন্মদিনের সেরা আগাম উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ব্যাটিংয়ে দাপট ও রেকর্ডের ছড়াছড়ি
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ২৫৫ রানের পাহাড় গড়ে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোর। অভিষেক শর্মার (২১ বলে ৫২) ঝোড়ো শুরুর পর ঈশান কিষাণ (৫৪) এবং সঞ্জু স্যামসন ভারতকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান। সঞ্জু স্যামসন ৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে এক বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির করা সর্বোচ্চ রানের ভারতীয় রেকর্ড ভেঙে দেন। টুর্নামেন্টে ৩২১ রান করে তিনি ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হন। সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়ে সঞ্জু বলেন, “সচিন তেন্ডুলকর স্যারের পরামর্শ ও সঠিক মানসিকতা আমাকে এই সাফল্যে সাহায্য করেছে।”
বুমরাহ-র বিষাক্ত বোলিং ও মোক্ষম বদলা
২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানেই থমকে যায়। ভারতের পেস আক্রমণের স্তম্ভ জসপ্রীত বুমরাহ ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪টি উইকেট দখল করে ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হন। বুমরাহ আবেগী কণ্ঠে জানান, এর আগে ঘরের মাঠে একটি ফাইনাল হারার কষ্ট তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াত, আজকের এই জয় সেই ক্ষতে প্রলেপ দিল। তিনি বিরাট কোহলি ও স্যাম কারানের মতো এলিট ক্লাবে যোগ দিলেন, যারা একইসঙ্গে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
Asia Cup Cricket 2025 : হেরে গিয়ে এশিয়া কাপ ট্রফি নিয়ে ‘পলায়ন’ পাক মন্ত্রীর! কড়া বার্তা দিল BCCI।
আগামী লক্ষ্য: অলিম্পিক সোনা
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “২০২৪-এর জয় ছিল আমাদের টার্নিং পয়েন্ট। আমরা ২০২৫-এ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছি এবং আজ ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ধরে রাখলাম। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে সোনা জয় করা।” কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনি থেকে শুরু করে বিরাট কোহলি—সকলেই এই তরুণ দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। ধোনি বিশেষভাবে বুমরাহ-কে ‘চ্যাম্পিয়ন বোলার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
















