sci mandates eci to submit final voter list WB

ব্যুরো নিউজ, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া এবং ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি নিয়ে এবার চরম সংঘাতের আবহে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, অন্যদিকে শাসক-বিরোধী তরজায় এখন উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ: আজ বিকেল ৫টাই ডেডলাইন

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের (CJI) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পেন্ডিং থাকা সমস্ত নথিপত্র আজ, ২৬শে ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে মনোনীত জুডিশিয়াল অফিসারদের কাছে জমা দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোটারদের জন্ম তারিখ ও অভিভাবকত্বের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড এবং পাস সার্টিফিকেট—উভয়ই গ্রহণ করা যাবে। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জমা পড়া অথচ আপলোড না হওয়া নথিগুলো অবিলম্বে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

WB ECI SIR : ব্যাহত রেল ও জাতীয় সড়ক: এসআইআর শুনানির আবহে জ্বলছে মুর্শিদাবাদ, কাঠগড়ায় প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা

“ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র”: তোপ মমতার

এদিন কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন:

  • প্রাথমিকভাবে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।

  • সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও গোপনে নাম বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, তিনি কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখেন না, বরং প্রতিটি বৈধ ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছেন।

  • আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর মানুষের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

“সরকারের অপদার্থতাতেই সাধারণের ভোগান্তি”: পাল্টাচাল শুভেন্দুর

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি রাজ্য প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ:

  • এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলার জন্য একমাত্র দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার।

  • বিএলও (BLO), ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-রা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য আপলোড করে বা নথি আটকে রেখে প্রক্রিয়াটিতে বাধা সৃষ্টি করেছেন।

  • শুভেন্দু বাবুর দাবি, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও প্রশাসনিক দুর্নীতি ও নিয়মভঙ্গের কারণে পশ্চিমবঙ্গেই এই সমস্যা প্রকট হয়েছে।

  • তাঁর মতে, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর এখন প্রশাসনকে আইন মেনে চলতেই হবে।

WB ECI SIR : ফেব্রুয়ারিতেই চূড়ান্ত তালিকা? রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা উসকে দিলেন অভিষেক

উপসংহার

আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বাদ পড়া কতজন ভোটার তাঁদের অধিকার ফিরে পান এবং রাজনৈতিক এই জলঘোলা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

Article Bottom Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর