general navrane controversy

ব্যুরো নিউজ, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নরভণের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’-র একটি প্রি-প্রিন্ট কপি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ায় নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই বইটির একটি টাইপ-সেট করা পিডিএফ সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই ঘটনায় একটি মামলা (FIR) রুজু করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেশ কিছু ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বইটির কভার এমনভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে যেন তা বিক্রির জন্য প্রস্তুত। কোন উৎস থেকে এই গোপনীয় তথ্য জনসমক্ষে এলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সংসদে রাহুল গান্ধীর তোপ: ‘নরভণে জি মিথ্যা বলছেন না’

এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় যখন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদ চত্বরে বইটির একটি কপি প্রদর্শন করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি সংসদে রাহুল দাবি করেন, ২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাতের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে সমস্ত দায়ভার সেনাপ্রধানের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। রাহুলের কথায়, “স্পিকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলছেন বইটির কোনো অস্তিত্ব নেই, কিন্তু জেনারেল নরভণে নিজেই ২০২৩ সালে টুইট করে বইটির কথা জানিয়েছিলেন। হয় পেঙ্গুইন (প্রকাশক) মিথ্যা বলছে, নয়তো প্রাক্তন সেনাপ্রধান। আমি সেনাপ্রধানকেই বিশ্বাস করি।”

প্রকাশক সংস্থা পেঙ্গুইনের অবস্থান

বিতর্ক দানা বাঁধতেই মুখ খুলেছে বইটির প্রকাশনী সংস্থা ‘পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া’ (PRHI)। সোমবার এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই স্মৃতিকথার একমাত্র স্বত্ব তাদের কাছে থাকলেও বইটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত বা বাজারজাত করা হয়নি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, বর্তমানে অনলাইনে যে পিডিএফ বা ডিজিটাল সংস্করণ ঘুরছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন।

কেন এই বই ঘিরে এত বিতর্ক?

বইটির মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে জেনারেল নরভণের কিছু পর্যবেক্ষণ। বইটিতে দাবি করা হয়েছে যে, চীনা সেনার মোকাবিলা করার সময় তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন।

  • নেতৃত্বের প্রশ্ন: অভিযোগ উঠেছে যে, জেনারেল নরভণে গালওয়ান সংকটের সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বিদেশ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) পরামর্শের জন্য উদগ্রীব ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: পিএমও থেকে শেষ পর্যন্ত বার্তা দেওয়া হয়েছিল, “ভারতের সুরক্ষায় যা সঠিক মনে হয়, তাই করুন।” কিন্তু সেনাপ্রধান একে সেনাবাহিনীর ‘মুক্তহস্ত’ হিসেবে না দেখে নিজের ওপর অর্পিত এক ভারী দায়িত্ব বা বোঝা হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে জানা গেছে।

West Bengal Election politics : বামেদের কাস্তে ছাড়ল হাত শিবির: ২৬-এর লড়াইয়ে ২৯৪ আসনেই একা লড়বে কংগ্রেস

জনসাধারণের প্রত্যাশা ও সেনাবাহিনীর প্রোটোকল

ভারতের সাধারণ মানুষ ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সেনাবাহিনীর প্রাথমিক কর্তব্য। কূটনীতি বা আলোচনার দায়িত্ব বিদেশ মন্ত্রণালয়ের হলেও, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রোটোকল মেনে দ্রুত জবাব দেওয়াই প্রত্যাশিত। জেনারেল নরভণের এই স্মৃতিকথায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরামর্শ চাওয়াকে বিরোধী পক্ষ সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখলেও, সমালোচকেরা একে শীর্ষ পদে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তার সিদ্ধান্তহীনতা হিসেবেই দেখছেন।

বর্তমানে দিল্লি পুলিশের তদন্তের লক্ষ্য হলো—কীভাবে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের খসড়া পাণ্ডুলিপি জনসমক্ষে চলে এলো এবং এর পেছনে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর