ব্যুরো নিউজ, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : বিহার বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসনও না পাওয়ার পর এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মুখ পুড়ল প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ’-এর। বিহার নির্বাচন ২০২৫ বাতিলের দাবি জানিয়ে পিকে-র দলের দায়ের করা আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রশান্ত কিশোরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
জন সুরাজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচনের আগে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’র মাধ্যমে মহিলাদের ১০,০০০ টাকা করে দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করেছে নীতীশ কুমারের সরকার। এই নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে পুনরায় ভোট করানোর আর্জি জানিয়েছিলেন পিকে। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মন্তব্য করেন, “জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, এখন আপনারা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য বিচারবিভাগীয় মঞ্চ ব্যবহার করছেন। নির্বাচনে সব হারনোর পর সস্তায় প্রচার পাওয়ার জন্য আদালতে আসবেন না।”
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায় যে, একটি রাজনৈতিক দল যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, তাদের কথায় পুরো রাজ্যের নির্বাচন বাতিল করা যায় না। যদি নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রে বেনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তার জন্য পাটনা হাইকোর্টে নির্বাচনী পিটিশন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
ইডির জালে আই-প্যাক: কয়লা পাচারের কালো টাকায় সংস্থা চালানোর অভিযোগ
প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক জীবনের মেঘ যেন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একদিকে বিহারের হার, অন্যদিকে তাঁর হাতে গড়া সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC) এখন ইডির নজরে। অভিযোগ উঠেছে, কয়লা পাচার চক্রের কোটি কোটি টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। সম্প্রতি কলকাতার আই-প্যাক দপ্তরে এবং সংস্থার আধিকারিকদের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির দাবি, এই কালো টাকা নির্বাচনের রণকৌশল সাজানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রশান্ত কিশোর সরাসরি সংস্থার দায়িত্বে না থাকলেও, প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর ভূমিকা এবং আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
দ্বিমুখী নীতি: যখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ কৌশল, বিহারের সাহায্য ‘বেনিয়ম’?
রাজনৈতিক মহলে প্রশান্ত কিশোরের এই আইনি লড়াইকে অনেকেই ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে দেখছেন। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর আই-প্যাক যে রণকৌশল সাজিয়েছিল, তার অন্যতম তুরুপের তাস ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। সেই সময় সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর এই প্রকল্পকে ‘উন্নয়ন’ হিসেবে প্রচার করেছিল আই-প্যাক।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিহারে যখন একই কায়দায় নীতীশ কুমার সরকার মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করল, তখন তাকে ‘ভোট কেনার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করে আদালতের দ্বারস্থ হলেন প্রশান্ত কিশোর। সমালোচকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে যে পদ্ধতিকে পিকে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলেছিলেন, বিহারে নিজের পরাজয় দেখে সেই পদ্ধতিকেই তিনি ‘দুর্নীতি’ বলছেন। সুপ্রিম কোর্টও এদিন মনে করিয়ে দেয় যে, রাজনৈতিক লড়াই ব্যালটেই শেষ হওয়া উচিত, আদালতে নয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
সুপ্রিম কোর্ট জন সুরাজকে এই মামলা নিয়ে পাটনা হাইকোর্টে যাওয়ার স্বাধীনতা দিলেও, শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ পিকের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।



















