ব্যুরো নিউজ, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি মেলেনি। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া থাকা ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ২০ লক্ষ বর্তমান কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত পেনশনার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা সরাসরি উপকৃত হবেন। আদালত সাফ জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের দোহাই দিয়ে কর্মীদের এই ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা যাবে না।
বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া: গঠিত হলো উচ্চপর্যায়ের কমিটি
বকেয়া ডিএ-র বাকি ৭৫ শতাংশ টাকা কীভাবে এবং কতগুলি কিস্তিতে মেটানো হবে, তা নির্ধারণ করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই কমিটি আগামী ৬ মার্চের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেবে। কমিটির প্রধান কাজগুলি হলো:
মোট কত টাকা বকেয়া রয়েছে তা নির্ধারণ করা।
বকেয়া মেটানোর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা ‘ডেডলাইন’ স্থির করা।
রাজ্য সরকার পর্যায়ক্রমে টাকা মেটাচ্ছে কি না, তার ওপর নজরদারি চালানো।
Union Budget 2026 : কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬: ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর শোনালেন নির্মলা , স্বাস্থ্য বাজেটে ১৯৪% উল্লম্ফন, প্রতিটি জেলায় ট্রমা কেয়ার সেন্টারের ঘোষণা।।
বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি: নির্বাচনী প্রলোভন না কি প্রলেপ?
সুপ্রিম কোর্টে যখন ধাক্কা খাচ্ছে রাজ্য, ঠিক তখনই রাজ্য বিধানসভায় ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে গত বছরের বাজেটে ৪ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের কর্মীরা বর্তমানে ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। নতুন ৪ শতাংশ যুক্ত হওয়ার ফলে আগামী ১ এপ্রিল থেকে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ২২ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে ফারাকটা এখনও বিশাল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মীরা যেখানে ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন (২০২৬ সালের হিসেব অনুযায়ী), সেখানে রাজ্যের এই ৪ শতাংশ বৃদ্ধিকে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ বা ‘সামান্য প্রলেপ’ হিসেবেই দেখছেন আন্দোলনকারী কর্মীরা।
Union Budget 2026 : কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬: মধ্যবিত্তের পৌষমাস! ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত, সস্তা ক্যানসারের ওষুধ।
রাজনৈতিক তরজা ও আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী করুণা নন্দী বলেন, “আদালতের এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে রাজ্যকে বকেয়া দিতেই হবে। ২৫ শতাংশ এখনই দিতে হবে এবং বাকিটার জন্য তৈরি কমিটি নজর রাখবে।” অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, বকেয়া মেটাতে না পেরে ভোটের মুখে এই ৪ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা আসলে একটি ‘নির্বাচনী প্রলোভন’ ছাড়া আর কিছুই নয়।



















