ব্যুরো নিউজ, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত হলো এক ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফোনালাপের পর ঘোষিত এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে উৎসবের মেজাজ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই বড় সাফল্যের মাঝেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলি চুক্তির খুঁটিনাটি ও কার্যকারিতা নিয়ে কিছুটা সাবধানী অবস্থান নিয়েছে।
শেয়ার বাজারে উৎসব: একদিনেই বিপুল লক্ষ্মীলাভ
বাণিজ্য চুক্তির প্রভাবে মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই সেনসেক্স ও নিফটি রকেটের গতিতে ছুটতে শুরু করে। প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধির সাথে সেনসেক্স ২,৪২১ পয়েন্ট বেড়ে ৮৪,০৮৮ স্তরে পৌঁছায়। নিফটিও ৭৪১ পয়েন্ট বেড়ে ২৫,৮২৯-এর ঘরে থিতু হয়। রিয়্যালটি, অটো এবং আইটি সেক্টরে সবথেকে বেশি কেনাকাটা লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন শুল্ক হ্রাসের ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে গেছে।
চুক্তির মূল বিষয়: ১৮ শতাংশ শুল্ক ও রাশিয়ার তেলের শর্ত
এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। বদলে ভারত রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আমেরিকার থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির কথা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথায়, “মোদিজির সাথে বন্ধুত্বের খাতিরেই এই তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেওয়া হয়েছে।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের নজরে এই চুক্তি
আমেরিকার প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলি এই চুক্তিকে স্বাগত জানালেও কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছে:
ফক্স নিউজ: তারা জানিয়েছে, এই চুক্তি ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল। ভারতের জ্বালানি নির্ভরশীলতা মস্কো থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনের দিকে ঘোরানোই ছিল আমেরিকার লক্ষ্য।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল: সংবাদপত্রটি উল্লেখ করেছে যে, যদিও শুল্ক কমানোর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু হোয়াইট হাউস থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্সের মতো ভারতের বড় রপ্তানি ক্ষেত্রগুলি আগে থেকেই করমুক্ত ছিল, তাই নতুন করে কতটা লাভ হবে তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস: তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চুক্তিটি ইতিবাচক হলেও অনেক বিষয় এখনও অস্পষ্ট। ভারত কি সত্যিই রাশিয়ার সাথে তেলের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করবে? ১৮ শতাংশ শুল্কও কি ব্যবসায়ীদের জন্য খুব বেশি নয়?—এমন প্রশ্ন তুলেছে তারা।
EU Free Trade Agreement : ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: বিশ্ব বাণিজ্যে এক নতুন যুগের সূচনা
প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ভারত
এই চুক্তির ফলে এশিয়ার অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর তুলনায় ভারত সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছেছে। যেখানে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা বা ভিয়েতনামকে ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়, সেখানে ভারত এখন ১৮ শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাবে। অর্থনীতিবিদদের আশা, এই চুক্তির ফলে ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।


















