ব্যুরো নিউজ, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের পরেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা একে এক ঐতিহাসিক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, বিরোধী পক্ষ এর স্বচ্ছতা ও শর্তাবলী নিয়ে কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।
সরকারের দাবি: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র নতুন দিশা
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই চুক্তিকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে আমেরিকা সফরে থাকা জয়শঙ্কর জানান, এর ফলে দুই দেশেই কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নতুন প্রযুক্তির আদান-প্রদান সহজ হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই চুক্তিকে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এটি ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং কৃষকদের জন্য বিশ্ববাজারের নতুন দরজা খুলে দেবে।
EU Free Trade Agreement : ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: বিশ্ব বাণিজ্যে এক নতুন যুগের সূচনা
শুল্ক হ্রাসের অংক: স্বস্তিতে রপ্তানিকারকরা
গত এক বছরে বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। বিশেষ করে ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। নতুন চুক্তিতে সেই বাড়তি কর তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যে কার্যকর শুল্কের হার ১৮ শতাংশ, যা বাংলাদেশ (২০%), ভিয়েতনাম (২০%) এবং পাকিস্তানের (১৯%) তুলনায় অনেকটাই কম।
বিরোধীদের তোপ: ‘ট্রাম্প-নির্ভরতা’ ও গোপনীয়তার প্রশ্ন
অন্যদিকে, কংগ্রেস এই চুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ একে ‘ট্রাম্প-নির্ভরতা’ (Trump-nirbharta) বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নয়, বরং ওয়াশিংটন থেকে প্রথম ঘোষণা করা হচ্ছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ভারত সরকার কী করছে, তা আমাদের জানতে হচ্ছে ট্রাম্পের পোস্ট থেকে। মোদিজি কি তবে ট্রাম্পের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন?”
কংগ্রেসের মূল প্রশ্নগুলি হলো:
ভারতের কৃষি বাজার কি আমেরিকার জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হচ্ছে?
রাশিয়ার থেকে সস্তায় তেল কেনা কি পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে ভারত?
‘বাই আমেরিকান’ (Buy American) নীতি মেনে ভারত কি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনতে দায়বদ্ধ?
Union Budget 2026 : কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬: মধ্যবিত্তের পৌষমাস! ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত, সস্তা ক্যানসারের ওষুধ।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: ‘আত্মবিশ্বাসই শক্তি’
সমালোচনার জবাব না দিলেও প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে ১৪০ কোটি ভারতবাসীর বিজয় হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য এখন অনেক কম শুল্কে আমেরিকার বাজারে পৌঁছাবে। টুইট করে তিনি বলেন, “আত্মবিশ্বাসই সেই শক্তি যা অসম্ভবকে সম্ভব করে। এই শক্তিই আমাদের বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্ন সফল করবে।”


















