ব্যুরো নিউজ, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতে “ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎমুখী” এই বাজেটে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে কর কাঠামোয় আনা হয়েছে সরলীকরণ।
স্বাস্থ্য খাতে ১ লক্ষ কোটির বেশি বরাদ্দ
এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের জন্য ১,০৬,৫৩০.৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। ২০১৪-১৫ সালের তুলনায় স্বাস্থ্য বাজেটে ১৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি ভারতের জনস্বাস্থ্য পরিষেবায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডিজিটাল হেলথ মিশন: আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের জন্য ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা রোগীদের ডিজিটাল রেকর্ড এবং টেলিমেডিসিন পরিষেবা আরও উন্নত করবে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর জোর: রাঁচি এবং তেজপুরের মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকীকরণের পাশাপাশি উত্তর ভারতে একটি নতুন ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস’ (NIMHANS) তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জেলা হাসপাতালে জরুরি বিভাগ: প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে এমন এমার্জেন্সি ও ট্রমা কেয়ার সেন্টার খোলার ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।
Union Budget 2026 : কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬: মধ্যবিত্তের পৌষমাস! ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত, সস্তা ক্যানসারের ওষুধ।
কর্পোরেট কর ও ম্যাট (MAT)-এ পরিবর্তন
কোম্পানিগুলোকে নতুন কর ব্যবস্থার (New Tax Regime) দিকে উৎসাহিত করতে মিনিমাম অল্টারনেট ট্যাক্স বা ম্যাট (MAT)-এর হারে বদল আনা হয়েছে।
ম্যাট-এর হার হ্রাস: ম্যাট-এর হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৪ শতাংশ করা হয়েছে।
চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য: যারা নতুন কর ব্যবস্থা বেছে নেবেন, তাদের জন্য এই ম্যাট-ই হবে চূড়ান্ত কর। পরবর্তীকালে এর বিপরীতে কোনও ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়া যাবে না।
পুরানো ক্রেডিট ব্যবহারের সুযোগ: যাদের কাছে আগে থেকেই ম্যাট ক্রেডিট জমা রয়েছে, তারা নতুন ব্যবস্থায় আসার পর মোট কর দায়ের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত তা ব্যবহার করতে পারবেন। এই সুযোগ পাওয়া যাবে ক্রেডিট তৈরির পর ১৫ বছর পর্যন্ত।
Union Budget President Murmu : বাজেট অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি: ১০ বছরে দারিদ্র্যমুক্ত ২৫ কোটি মানুষ, ১০০ দিনের কাজের বদলে আসছে ১২৫ দিনের গ্যারান্টি
গবেষণায় বিশেষ নজর
স্বাস্থ্য গবেষণার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪,৮২১.২১ কোটি টাকা। এর লক্ষ্য হলো ভারতকে চিকিৎসার পাশাপাশি গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশ্বমানের করে তোলা। অর্থমন্ত্রী তাঁর ৮৫ মিনিটের বক্তব্যে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, সরকার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


















