Skincare Dr Gangly

ডাঃ শান্তনু গাঙ্গুলি , সহযোগী প্রভাষক, মালয়েশিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (MMA) , ৩০শে জানুয়ারী ২০২৬ : অনেকের ধারণা এই যে, ত্বক বা চর্ম গাত্রাবরণ মাত্র। কিন্তু এই অনুমান ভ্রান্তিমূলক, কেননা ত্বক শরীরের বা শারীরিক যন্ত্রণার অবাহক মাত্র নহে – বস্তুত হৃদপিণ্ড, পাকস্থলীর ন্যায় ইহা প্রাণীদেহের একটি সক্রিয় যন্ত্র। অতএব চামড়ার কোনো রোগ হইলে উহা প্রলেপাদি অনিষ্টকর বাহ্যপ্রয়োগ দ্বারা নিরাময়ের চেষ্টা করা উচিত নয়।

চর্মরোগ সাধারণত: অভ্যন্তরীণ দেহযন্ত্রের কোষ পীড়ার বাহ্য প্রকাশ মাত্র। সুতরাং উহা নিরাময় করিতে হইলে, সাধারণত অভ্যন্তরীণ ওষুধ খাওয়াই প্রকৃষ্ট উপায়। তবে শীতকালে বায়ু ও পরিবেশ দূষিত হয়ে দুই একটি চর্মরোগ যাহা শরীরে ময়লা জমে উৎপন্ন হয় সেগুলির ক্ষেত্রে সাবান প্রভৃতি বাহ্যপ্রয়োগে প্রশমিত করলে কোনো ক্ষতি হয় না।

শীতকালীন ত্বকের সমস্যা যেমন শুষ্কতা, চুলকানি, ঠোঁট ফাটা, একজিমা, এবং নানান প্রকারের চর্মরোগ ঠান্ডা বাতাসের আক্রমণ থেকে উদ্ভূত হয়। এর সমাধানের মধ্যে রয়েছে হালকা ক্লিনজার, ঘন ময়েশ্চারাইজার (গ্লিসারিন ইত্যাদি সহ)। অল্প সময় ধরে হালকা গরম জলে স্নান করা, হাইড্রেটেড থাকা, হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা এবং টুপি গ্লাভস দিয়ে ত্বককে বাতাস থেকে রক্ষা করা। মৃদু এক্সফোলিয়েশন এবং রোদ থেকেও সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ তবে দীর্ঘস্থায়ী গুরুতর সমস্যার জন্যে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রয়োজন।


শীতের ত্বকের সাধারণ সমস্যা

১. শীতের ত্বকের শুষ্কতা এবং খোসা ছাড়ানো: ত্বক টানটান এবং নিস্তেজ বোধ করে এবং কম আর্দ্রতার কারণে ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে ত্বকের উপরের আস্তরণের খোসা ছেড়ে যেতে পারে। এতে আক্রান্ত স্থানে জ্বালা অনুভূত হতে পারে।
২. ঠোঁট ফাটা: ঠোঁট ফাটলে প্রায়শই ঠোঁট শুষ্ক হয়ে ফেটে যায় এবং ব্যথা বোধ হয়।
৩. একজিমা ও ডার্মাটাইটিস: চুলকানি, লাল, স্ফীত দাগের সাথে বিদ্যমান অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে।
৪. শীতকালীন চুলকানি: তীব্র চুলকানির সৃষ্টি হয় আবার কখনো কখনো ফুসকুড়ি ছড়ায় এবং এর অবস্থার অবনতি হলে অন্তর্নিহিত জটিল সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে থাকতে পারে।
৫. বাতাসে পোড়া: ঠান্ডা বাতাসে ত্বক লাল হয়ে যাওয়া থেকে জ্বালা পোড়ার সৃষ্টি হয়ে থাকে।


SCIATICA : সায়াটিকা: কারণ, লক্ষণ ও নিরাময় পদ্ধতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ।

সমাধান ও প্রতিরোধ

১. উদারভাবে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন: ভেজা ত্বকে স্নানের পরে নরমকারী ক্রিম (পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন, সিরামাইড যুক্ত ত্বকে প্রয়োগ করুন)। এতে ত্বক স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পাবে।
২. মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন: বেশি গরম জলের ব্যবহার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। হালকা সুগন্ধি যুক্ত, সালফেট মুক্ত বডিওয়াশ ও ফেসওয়াশ ব্যবহার করা চলতে পারে।
৩. স্নানের অভ্যাস ব্যালেন্স করুন: গরম জলের পরিবর্তে, অল্প সময়ের জন্যে (৩-৬ মিনিট) ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করুন ও অতিরিক্ত ধোয়া ও ধুলো যুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।
৪. অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিকভাবে হাইড্রেট করুন: প্রচুর জল পান করুন। ঘরের ভেতর একটি হিউমিডিফায়ার (৩০%-৫০% আর্দ্রতার ওপর সেট করে) ব্যবহার করুন।
৫. আপনার ত্বক রক্ষা করুন: গ্লাভস, স্কার্ফ এবং টুপি ব্যবহার করুন এবং পেট্রোলিয়ামের লিপ বাম প্রয়োগ করে প্রতিদিন সানস্ক্রিন লাগান।
৬. মৃদু এক্সফোলিয়েশন: মরা চামড়া অপসারণের জন্যে নরম অয়েলক্লথ বা মৃদু স্ক্রাব ব্যবহার করুন, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়।
৭. খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপ: ওমেগা ৩ প্রোটিন যুক্ত খাবার গ্রহণ, ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন। মানসিক শান্তি ও উৎফুল্লতা বজায় রেখে চলুন কারণ অতিরিক্ত স্ট্রেস ত্বকের চর্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে।


ACIDITY and GAS : রোজকার বদহজম, বুকজ্বালা , অম্বল এবং গ্যাসের সমস্যা নিরাময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ।

কখন ডাক্তারের সাথে দেখা করবেন?

১. যদি চুলকানির তীব্রতা বেশি হয় ও এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় অথবা আপনি ত্বকের কোনো ঘা লক্ষ্য করে থাকেন।
২. কোনো একজিমা, সোরিয়াসিস বা সন্দেহজনক ফ্রস্টবাইট যদি দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুতর আকার ধারণ করে থাকে, সেক্ষেত্রে সুচিকিৎসার সুপরামর্শ গ্রহণ করা একান্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর