supreme court stays UGC regulations

ব্যুরো নিউজ, ২৯শে জানুয়ারী ২০২৬ : উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ ও সমতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) যে নতুন নিয়মাবলি জারি করেছিল, বৃহস্পতিবার তাতে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ইউজিসি-র এই নতুন নির্দেশিকার ভাষা অস্পষ্ট এবং এর অপব্যবহার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও ইউজিসি-কে এই নিয়মাবলী পুনরায় পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছে।


বিতর্কের মূলে ‘বর্ণবৈষম্য’-র সংজ্ঞা
: সাধারণ ক্যাটাগরির বর্জন

গত ১৩ই জানুয়ারি ইউজিসি ‘Promotion of Equity in Higher Education Institutions Regulations, 2026’ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এই নতুন নিয়মে ‘বর্ণবৈষম্য’ (Caste-based discrimination)-কে শুধুমাত্র তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি জনজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) প্রতি বৈষম্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, এই সংজ্ঞার ফলে সাধারণ বিভাগের (General Category) ছাত্রছাত্রীরা বৈষম্যের শিকার হলে তাদের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন আদালতে যুক্তি দেন যে, এই নিয়ম সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (সাম্যের অধিকার) পরিপন্থী।

ইউজিসি-র নতুন নিয়মে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুইটি কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কের মূল কারণ ছিল কমিটির গঠন এবং বৈষম্যের সংজ্ঞা।

  • সীমিত সংজ্ঞা: নতুন নিয়মে বৈষম্য বলতে শুধুমাত্র SC, ST, OBC, প্রতিবন্ধী এবং মহিলাদের প্রতি আচরণকে বোঝানো হয়েছে।

  • বৈষম্যমূলক অভিযোগ: এই পরিকাঠামোয় ‘সাধারণ ক্যাটাগরি’ (General Category)-র ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ জানানোর কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন সওয়াল করেন যে, বৈষম্য যেকোনো নাগরিকের সাথেই হতে পারে, তাই এটি নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা অসাংবিধানিক।


UGC ‘ EQUITY ‘ controversy : ইউজিসি-র নতুন ‘ইক্যুইটি’ নীতি ২০২৬: শিক্ষাঙ্গনে সাম্য না কি নতুন জাতপাতের লড়াই?

শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান যে, আদালত এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ না করলে এর ‘ভয়াবহ প্রভাব’ পড়তে পারে। তিনি বলেন, “আমরা যদি এখন হস্তক্ষেপ না করি, তবে এটি সমাজকে বিভক্ত করবে এবং এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।” আদালতের মতে, এই নিয়মাবলীর ভাষা বিশেষজ্ঞরা নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন যাতে এর কোনো অপব্যবহার না হয়।

বর্তমানে নতুন নিয়ম স্থগিত করে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ২০১২ সালের পুরনো নির্দেশিকাগুলি (যা মূলত উপদেশমূলক বা advisory ছিল) আপাতত বহাল থাকবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত আরও মন্তব্য করেন, “সমাজকে একসাথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এমন কোনো বিভেদরেখা টানা উচিত নয় যা সমাজকে বিভক্ত করে।” আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে:

  • নতুন এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে সমাজে বিপজ্জনক প্রভাব পড়তে পারে।

  • যতদিন না নতুন খসড়া তৈরি হচ্ছে, ততদিন ২০১২ সালের পুরনো নিয়মই কার্যকর থাকবে।

  • একটি বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে এই সংজ্ঞার আইনি ও সামাজিক দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: রোহিত ভেমুলা ও পায়েল তাড়ভির স্মৃতি

উল্লেখ্য, এই নতুন নিয়মগুলি তৈরির মূলে ছিল ২০১৯ সালের একটি জনস্বার্থ মামলা। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহিত ভেমুলা এবং মুম্বাইয়ের চিকিৎসক পায়েল তাড়ভির আত্মহত্যার পর তাঁদের মায়েরা (রাধিকা ভেমুলা ও আবেদা সেলিম তাড়ভি) ক্যাম্পাসে বর্ণবৈষম্য দূর করতে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই ইউজিসি এই নতুন বিধিমালা তৈরি করে, যা এখন আইনি জটিলতায় থমকে গেল।

 

বিক্ষোভে উত্তাল ক্যাম্পাস ও ভারত বনধের ডাক

এই নিয়মাবলী প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই উত্তরপ্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা একে ‘বিভাজনমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। অনেক ছাত্র সংগঠন এই বৈষম্যমূলক সংজ্ঞার প্রতিবাদে আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি ‘ভারত বনধ’-এর ডাক দিয়েছে। বিজেপি নেতা কালরাজ মিশ্র এবং প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিংও এই নিয়মাবলীর তীব্র বিরোধিতা করে সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন।


EU Free Trade Agreement : ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: বিশ্ব বাণিজ্যে এক নতুন যুগের সূচনা

মামলার প্রেক্ষাপট ও আবেদনকারী

অ্যাডভোকেট বিনীত জিন্দাল, মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারি এবং রাহুল দেওয়ানের করা পিটিশনের ভিত্তিতে এই শুনানি হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন আইএএস ও ‘The Jaipur Dialogues ‘ খ্যাত বিশিষ্ট ইউটিউবার সঞ্জয় দীক্ষিতও। অন্যদিকে, ইউজিসি দাবি করেছিল যে রোহিত ভেমুলা ও পায়েল তাড়ভির মায়েদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশের ভিত্তিতেই এই পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।

পরবর্তী পদক্ষেপ: সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও ইউজিসি-কে নোটিশ পাঠিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৯শে মার্চ, ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর