UGC controversy

ব্যুরো নিউজ, ২৭শে জানুয়ারী ২০২৬ : ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য ঘোচাতে এক যুগান্তকারী পদপে নিয়েছে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন (UGC)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবং রোহিত ভেমুলা ও পায়েল তাদভির মায়েদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চালু হয়েছে ‘প্রমোশন অফ ইক্যুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস, ২০২৬’। লক্ষ্যটি মহৎ হলেও, এই বিধির পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা কিছু ধারা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।


ইক্যুইটি সেন্টারের গঠন ও ভূমিকা

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি ‘ইক্যুইটি সেন্টার’ বা সম-সুযোগ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। এই কেন্দ্র জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সিভিল সোসাইটি এবং লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানের প্রধানের অধীনে গঠিত এই কমিটিতে ওবিসি, এসসি, এসটি, প্রতিবন্ধী এবং মহিলা প্রতিনিধিদের থাকা বাধ্যতামূলক। এদের কাজ হলো বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

Republic Day Padma awardees : পদ্ম পুরস্কার ২০২৬: মরণোত্তর সম্মানে ভূষিত ধর্মেন্দ্র ও অচ্যুতানন্দন, তালিকায় বাংলার প্রসেনজিৎ ও তরুণ ভট্টাচার্য


বিতর্কের মূলে: বৈষম্যের একপেশে সংজ্ঞা?

এই নতুন বিধির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো ‘জাতিভিত্তিক বৈষম্য’-এর সংজ্ঞা। ইউজিসি-র মতে, কেবল তফশিলি জাতি, উপজাতি বা ওবিসি সদস্যদের বিরুদ্ধে হওয়া আচরণই বৈষম্য হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে নেটপাড়ায় #ShameonUGC ট্রেন্ড করছে। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের দাবি, এটি সাধারণ শ্রেণীর (General Category) ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে এক প্রকার ‘অ্যান্টি-জেনারেল ক্যাটাগরি’ আইন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এর ফলে শিক্ষাঙ্গন জাতপাতের লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত হবে।


সুরক্ষা কবচের অপব্যবহারের আশঙ্কা

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো অভিযোগকারীর দায়বদ্ধতা। নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলেও অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। সমালোচকদের মতে, এই ‘ইমিউনিটি’ বা ছাড় ছাত্র রাজনীতিতে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। কমিটির মধ্যে সাধারণ শ্রেণীর কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকা (প্রতিবন্ধী বা মহিলা বাদে) এই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Republic Day Bravery Awardees : বীরত্বের সম্মান: মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লাকে অশোক চক্র প্রদান, প্রজাতন্ত্র দিবসে পুরস্কৃত ৭০ জন জওয়ান


উপসংহার

ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সেই সাম্য যদি একতরফা হয়, তবে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। সাধারণ শ্রেণীর মধ্যে ইতিমধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে যে, মেধাকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল জাতপাতের ভিত্তিতে বিচার করলে দেশের উন্নয়ন থমকে যাবে। ইউজিসি যদি দ্রুত এই বিধির সংশোধনী না আনে, তবে ভবিষ্যতে এটি বড় কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক বিদ্রোহের রূপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর